শীর্ষ ২০-এ আসতে চায় রহমান ইক্যুইটি

শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য চাড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডার রহমান ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আজ সোমবার, ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। অবস্থান করে নিতে চায় ডিএসইর শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অন্যতম নিউজ পোর্টাল সানবিডির সাথে একান্ত আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মেহেদী আরাফাত।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ৫৮ টি কোম্পানিকে ব্রোকারেজ হাউজ পরিচালনার জন্য ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেটের (ট্রেক) অনুমোদন দিয়েছে। এসব লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রহমান ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট অন্যতম।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বানিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য ডিএসই অনুমতি দিয়েছে।প্রথমদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানকে কর্যক্রম চালু করতে অনুমতি দেয়া হয়েছে, সেই তালিকায় রহমান ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের নামও রয়েছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য বিএসইসি ও ডিএসইর সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আজ সোমবার (৩১ জানুয়ারি,২২) থেকে লেনদেন শুরু হবে।

এই কর্মকর্তা বলেন, বিএসইসি’র কাছ থেকে আমরা লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে আমাদের প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। এজন্য লোকবল নিয়োগ দেয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা শেষ করেছি। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের সব ধরনের কাগজপত্র জমা দিয়েছি। শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আমরা সিডিবিএল, সার্ভার এবং বুথ সহ সব ধরনের কাজ শেষ করেছি। অর্থাৎ একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যত কাজ রয়েছে আমরা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছি। ডিএসই’র অনুমতি নিয়ে আজ থেকে লেনদেন শুরু হবে।

কাজী মেহেদী আরাফাত বলেন, তিনি ২০০৭ সাল থেকে শেয়ার মার্কেটে কাজ করছেন। এই সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ হয়েছে। গত ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রহমান ইকুইটি ম্যানেজমেন্টকে উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। তার কর্মময় জীবনের অধিকাংশ শেয়ার মার্কেট নিয়ে গবেষনা করে কাটিয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা তিনি গ্রহন করবেন।

সারা দেশে প্রায় ৩০০ ব্রোকারেজ হাউজ শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুনরা কিভাবে কাজ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরাতন যে সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে আমাদেরও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেখানে আমাদেরও পরিচিতি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আমদের অনেক পরিচিত কাস্টমার রয়েছেন যারা আমাদের পছন্দ করেন, আমাদের ভালবাসেন। আমাদের প্রতি তাদের বিশ্বাস রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকেই আমাদের এখানে লেনদেন কারার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। শুরুতে পরিচিত এসব কাস্টমারের মাধ্যমে কাজ শুরু করতে চাই। এরপর আমাদের সেবার মান দেখে অন্যরা আসতে শুরু করবে।

তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন ব্রোকারেজ হাউজের সিইও যখন অন্য জায়গায় চলে যায় তখন তার সাথে একটি টিমও চলে যায়। এই টিমে কর্মকর্তা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অনেক কাস্টমারও।

তিনি বলেন, নতুন কাস্টমার নিয়ে আসা আমাদের জন্য বড় কোন চ্যালেঞ্জ নয়। কারণ রহমান ইকুইটি ম্যানেজমেন্টে যারা জয়েন করেছে তাদের মার্কেটে একটি সুপরিচিতি রয়েছে। আমাদের সাথে ছোট, বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিদের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা আমাদের কর্মকর্তাদের এই সুনামকে কাজে লাগাতে চাই।

এ প্রধান কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মুল ফোকাস হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিদের প্রতি। আমরা চেষ্ঠা করছি এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারিদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করে আমাদের এখানে নিয়ে আসার জন্য।

তিনি বলেন, রহমান ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট নিজস্ব অফিসে কাজ শুরু করেছে। ঢাকা শহরে অনেকেই আছেন যাদের নিজস্ব অফিস নেই। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়া অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের চেয়ে আমাদের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিচিত যেসব ব্যবসায়ী রয়েছেন তাদের মধ্যে যারা এখানে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন তাতে প্রথম দিকেই আমাদের হাউজ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের কার্যক্রম শুরু করার সাথে সাথে বিনিয়োগকারিদের শেয়ার বাজার সম্পর্কে প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা দিতে চাই। এতে একজন বিনিয়োগকারী জেনে বুঝে শেয়ার বাজারে ব্যবসা করতে পারবে। আমরা চেষ্ঠা করবো বিনিয়োগকারিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে। এতে তারা গুজবে কান না দিয়ে জেনে বুঝে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করবে। আমরা চেষ্ঠা করবো বিনিয়োগকারিদের মধ্যে এমন একটি ধারনা তৈরি করা যাতে তারা স্বল্প মেয়াদি বিনিয়োগের চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী হন।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি একজন বিনিয়োগকারী তখনই ক্ষতিগ্রস্থ হন, যখন অল্প সময়ের জন্য বিনিয়োগ করেন। একজন বিনিয়োগকারি যখন কোন শেয়ারে ক্ষতিগ্রস্থ হন তখন সেটি কাটিয়ে উঠতে অপর একটি কোম্পানির শেয়ার কম দামে ছেড়ে দেন। এতে তার ক্ষতি আরও বেশি হয়।

সেবার ধরণ কেমন হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী মেহেদী আরাফাত বলেন, আমরা চেষ্টা করবো সেবার মান বাড়াতে ওয়ানলাইনে লেনদেন, ডিএসই’র মাধ্যমে কাস্টমাররা লেনদেনের সুযোগ পাবেন। আমরা চেষ্টা করছি ওএমএস চালু করতে। তখন সহজেই একজন গ্রাহক শেয়ার ক্রয়-বিক্রিয় করতে পারবেন। একজন গ্রাহক তার পোর্টফলিও রিপোর্ট অনলাইনের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন। সকল ধরনের লেনদেনের তথ্য মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, এখানে লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কমিশন নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা অবশ্যই মার্জিন ঋণ দিবো। তবে এখানে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ইন্টারেস্ট নেয়ার চেষ্টা করবো।

তিনি বলেন, আমরা কাস্টমারদের এমন উন্নত সেবা প্রদান করবো যে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সেরা ২০ ব্রোকারেজ হাউজের মধ্যে নাম লেখাতে চাই। দেশে অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজার নিয়ে গবেষণা করেন। আমরাও গবেষণা করবো। তবে আমাদের গবেষণা হবে সবার সেরা। এই গবেষণার মাধ্যমে অনেক বিনিয়োগকারি উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন।

সূত্র : সানবিডি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here