৮৬ বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনা ‘ফিফার কূটচালে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন’

ডেস্ক রিপোর্ট : ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। গ্রিসের বিপক্ষে গোলের পর তাঁর সেই পাগলাটে উদযাপন ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসেই সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ উদযাপনগুলোর একটি। এরপরই জন্ম নিল ট্র্যাজেডি, ডোপপাপের দায়ে নিষিদ্ধ হন ম্যারাডোনা।

গ্রিসের বিপক্ষে গোলের পর সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে বিকৃত মুখ আর কোটর থেকে বেরিয়ে আসা চোখের দৃষ্টিতে উদযাপন করেছিলেন ‘৮৬ বিশ্বকাপের মহানায়ক। সংবাদমাধ্যমের মতে, ফিফার সন্দেহটা তখনই আরও গাঢ় হয়। ডোপ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ মাদক এফিডেরিনের অস্তিত্ত্ব ধরা পড়ে ম্যারাডোনার নমুনায়।নিষিদ্ধ হন সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার। আর্জেন্টিনার জার্সিতে ওটাই হয়ে আছে ম্যারাডোনার শেষ গোল। দেশের জার্সিতে শেষ ম্যাচও।

তখন থেকেই নানা মুনি নানা কথা বলেছেন। ফিফার ‍কূটচালে ম্যারাডোনা নিষিদ্ধ, এমন দাবিও করেছেন, করে যাচ্ছেন অনেকে। হাল সময়ে রোমার সাবেক আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার আবেল বালবো মুখ খুলেছেন এ নিয়ে। ম্যারাডোনার সঙ্গে ১৯৯০ ও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলে খেলা এই সাবেক স্ট্রাইকার মনে করেন ডোপ পরীক্ষায় ম্যারাডোনার ‘পজিটিভ’ হওয়া ছিল সাজানো নাটক। ‍কূটচালে ৮৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিকে বয়কট করেছিল ফিফা।

লিবেরো প্রোগ্রাম’কে বালবো বলেন, ‘ম্যারাডোনার সঙ্গে যা কিছু ঘটেছে, সব ছিল ফিফার বয়কট। হোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের সভাপতিত্বের শেষ বছরে ওরা চ্যাম্পিয়ন হতে দিতে চায়নি তাকে। অধিনায়ক হিসেবে তো নয়ই। ডিয়েগো আমাদের খুব খেয়াল রাখত। সে ঠিক পথেই ছিল।’

ফিফা যেভাবে ম্যারাডোনাকে নিষিদ্ধ করেছিল, সেই পথটা নিয়ে এখনো প্রশ্ন তুলে যান নব্বই দশকের শুরুতে দুর্দান্ত খেলা এ স্ট্রাইকার,’ওরা (ফিফা) যেভাবে ম্যারাডোনাকে ধরেছে তাতে বোঝা যায় গোটা বিষয়টাই সাজানো নাটক। ইতিহাসে সেবারই প্রথমবারের মতো আদালতের মধ্যে কোনো খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করেছে নার্স। ফিফায় সবকিছুই ছিল ভীষণ নোংরা’

আর্জেন্টিনার হয়ে ৩৭ ম্যাচে ১১ গোল করা বালবো এএস রোমার হয়ে জিতেছেন ইতালিয়ান লিগ। ‘৯৪ বিশ্বকাপের সে স্মৃতি কখনো ভুলতে পারবেন না বালবো, ‘পজিটিভ হয়ে ডিয়েগো চলে যাওয়ার পরের ম্যাচে ক্যানিজিয়াকেও হারাই। রোমানিয়ার বিপক্ষে প্রচুর গোল মিস করি। যে বিশ্বকাপে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা ছিল সেটি হয়ে আছে ক্যারিয়ারে অন্যতম দুঃখের স্মৃতি’
সূত্র : প্রথম আলো অনলাইন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here