৫ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন এমপিপিই উৎপাদনকারীরা

কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ রোধে দেশে মেডিকেল ও পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (এমপিপিই) উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ সহায়তা হিসেবে উদ্যোক্তাদের অনুদান দেবে সরকার। বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় চলমান এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জব (ইসি৪জি) প্রকল্পের আওতায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, যেসব উদ্যোক্তা বর্তমানে উদ্ভাবনী ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন করে এমপিপিই উৎপাদন করছেন এবং যারা ভবিষ্যতে এমপিপিই উৎপাদন করতে আগ্রহী, তাদের বিনিয়োগ প্রকল্পের মোট বিনিয়োগের ৬০ ভাগ অনুদান হিসেবে পাবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। আর বড় উদ্যোক্তারা তাদের প্রকল্পের সর্বোচ্চ ৫০ ভাগ পাবেন এই তহবিল থেকে।তবে প্রকল্প ব্যয় যেমনই হোক না কেন, এই তহবিল থেকে একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত অনুদান পাবেন। আগ্রহী উদ্যোক্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুদান দেওয়া হবে।

আজ রোববার ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে ইসি৪জি কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ উদ্যোক্তাবান্ধব এই তহবিল বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বকশি।প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর  মার্সি মিয়াং টেমবন বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হবেন।

মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, কোন ধরনের উদ্যোক্তারা এই তহবিল থেকে সহায়তা পাবেন, তার একটি ক্রাইটেরিয়া ঠিক করেছে বিশ্বব্যাংক। ইসি৪জি প্রকল্পের আওতায় এই অনুদান দেওয়া হলেও শুধু রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পণ্য সরবরাহ করে কোভিড নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে- এমন উদ্যোক্তারাও এ সহায়তা পাবেন।

ইসি৪জি প্রকল্পের আওতায় ১৭.৫ মিলিয়ন ডলারের এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড রয়েছে, যার মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার লেদার, ফুটওয়্যার, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্লাস্টিক শিল্পে বিনিয়োগ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে কোভিড সংক্রমণ বাড়ার কারণে এই প্রকল্পের আওতায় বাকি ৭.৫ মিলিয়ন ডলার এমপিপিই প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক লিন্ডেল মিলস অ্যান্ড ইয়ং কনসালট্যান্টস লিমিটেডকে কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয় সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পিপিই, কোভিড ডায়াগনস্টিক ইকুইপমেন্ট, ক্লিনিক্যাল কেয়ার ইকুইপমেন্ট, এমপিপিই- এ ধরনের পণ্যের ডিজাইন ও কারিগরি মান উন্নয়ন, প্যাকেজিংয়ে বৈচিত্র্য আনা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত উদ্যোক্তা তহবিল থেকে অনুদান পাবেন।

প্রাণ গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ ও জিএমআইসহ বাংলাদেশ বেশকিছু বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান মাস্ক উৎপাদন করছে। এর মধ্যে জিএমআই চীনা স্ট্যান্ডার্ডের কেএন৯৫ মাস্ক উৎপাদন করছে। এছাড়া, এসিআই, ওরিয়ন, স্কয়ারসহ বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি স্যানিটাইজার উৎপাদন করছে।

দেশে কোভিড সংক্রমণের আগে বাংলাদেশে পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) উৎপাদন না হলেও বর্তমানে বেক্সিমকোসহ বেশকিছু কোম্পানি উন্নতমানের পিপিই উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here