৪০ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বিক্রেতাদের তথ্য পর্যালোচনায় বিএসইসি

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক বড় দর পতনের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি ২০ ব্রোকারহাউজ ও ২০ মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে শেয়ার বিক্রির দিক থেকে উপরের দিকে থাকা বিনিয়োগকারীদের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখবে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদেরকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ৫০ জন বিক্রেতার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সময়ে শেয়ার বিক্রির দিক থেকে যারা শীর্ষে ছিলেন তারা এ তালিকার আওতায় আসবেন। এদের মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার।

গত সোমবার ও মঙ্গলবার ( ২২ ও ২৩ জুলাই) যথাক্রমে শীর্ষ ব্রোকার ও শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশনা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তাদেরকে তালিকা পাঠানোর জন্য ৩ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার বিক্রির তথ্যের পাশাপাশি এসব গ্রাহক সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে কী পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন সে সব তথ্যও জানাতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, তদন্ত কমিটি এসব বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রির বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে দেখবে। তারা আইনস্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করেছেন কি-না, আগ্রসীভাবেশেয়ার বিক্রি করেছেন কি-না (Aggressive Sell), অন্য কোনো যোগসাজশ বা অস্বাভাবিকতা আছে কি-না ইত্যাদি খতিয়ে দেখবে।

তদন্ত কমিটি এসব বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের মধ্যে যাদের ডিলার অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ আছে অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠান নিজের জন্য শেয়ার কেনা-বেচা করে থাকে তাদেরও তথ্যও খতিয়ে দেখবে। তাদেরকে আলোচিত সময়ের শেয়ার কেনাবেচার তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ, পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দর পতনকে অস্বাভাবিক মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ করে কিছুদিন আগে পুঁজিবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন শিথিলকরণ এবং বাজেটে বেশ কিছু ‘প্রণোদনা’ দেওয়ার পরও বাজারের নিম্নমুখী ধারা মোটেও স্বাভাবিক কিছু নয় বলে মনে করছে তারা। এমনকি গত সাড়ে ৬ মাসে মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এর ৮শ পয়েন্ট কমে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনাও দেশের অর্থনীতি বা অন্যকোনো অঙ্গনে ঘটেনি বলে বিএসইসি মনে করে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার সন্দেহ এই দর পতন ষড়যন্ত্রমূলক বা উদ্দেশ্যপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে। তাই বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরানো ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here