২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের সতর্ক মুদ্রানীতি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার: মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০১৮-১৯ সালের চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) সতর্ক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বেসরকারি খাতে ঋণ জোগান যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬.৮০ শতাংশ। সরকারি ঋণের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১০.৪০ শতাংশ। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুলাই) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৬.৮০ শতাংশ ছিল। অর্থবছর শেষে বাস্তবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬.৯৫ শতাংশ।

ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, নির্বাচনী বছ‌রে টাকার সরবরাহ বে‌ড়ে যা‌বে। তাই আ‌গের ধারাবা‌হিকতায় মুল্যস্ফী‌তি নিয়ন্ত্র‌ণে মুদ্রানী‌তি ভঙ্গি সংযত ধর‌ণের হ‌বে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ব্যবহার বিলাসী অপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের জন্য যেন ব্যবহার না হয়ে, প্রকৃত উৎপাদনমুখী, কর্মসংস্থানমুখী খাতে যেন ব্যবহার হয় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের আরও নজরদারি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮০ শতাংশ ধরা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সরকারের মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫.৬%। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮ অনুযায়ী (জুলাই-এপ্রিল,১৮) মুদ্রাস্ফীতি ৫.৮৩%।

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রানীতির মাধ্যমে পরবর্তী ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ ও দেশের দারিদ্র্য বিমোচন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। তবে, মুদ্রানীতির আরেকটা কাজ হলো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি বছর দুইবার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। ছয় মাস অন্তর এই মুদ্রানীতি একটি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে।

মুদ্রানীতি ঘোষণার অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপু‌টি গভর্নর ও আবু হেনা মোহাম্মদ রা‌জি হাসান,  ব্যাংকিং রিফর্ম অ্যাডভাইজার এস. কে. সুর চৌধুরী, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ফয়সল আহমেদ, অর্থনৈ‌তিক উপ‌দেষ্টা মো. আখতারুজ্জামানসহ সং‌শ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here