স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : মূল্যবান ধাতু ও বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের কদর আকাশচুম্বী। পণ্যটির এ জনপ্রিয়তার প্রতিফলন দেখা গেছে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে। এক বছরের ব্যবধানে এ সময় বিশ্বজুড়ে পণ্যটির চাহিদা ৭ শতাংশ বেড়েছে। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ ক্রয় বাড়িয়ে দেয়ায় পণ্যটির সামগ্রিক চাহিদায় এ উত্থান দেখা গেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল ১ হাজার ৫৩ দশমিক ৩ টন। এর বিপরীতে পণ্যটির সরবরাহ ছিল ১ হাজার ১৫০ টন। এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছে মাত্র তিন টন। অর্থাৎ ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে চাহিদা বাড়লেও স্বর্ণের সরবরাহে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ডব্লিউজিসি জানিয়েছে, গত প্রান্তিকে বছর বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ১৪৫ দশমিক ৫ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা ২০১৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ১৭৯ দশমিক ৭ টন স্বর্ণ কিনেছিল। ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ কিনেছিল ৮৬ দশমিক ৭ টন। এক বছরের ব্যবধানে গত প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। গত প্রান্তিকে নয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের রিজার্ভে এক টনের বেশি স্বর্ণ যোগ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈচিত্র্য আনা এবং নিরাপত্তার আশায় তরল সম্পদ ক্রয় বৃদ্ধি এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। টানা চার প্রান্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ৭১৫ দশমিক ৭ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা এ-যাবত্কালের সর্বোচ্চ।

ডব্লিউজিসির তথ্যমতে, ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বের প্রধান দুই শীর্ষ ব্যবহারকারী চীন ও ভারতে স্বর্ণের চাহিদায় বিপরীতমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময় চীনে স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা ২ শতাংশ কমে ১৮৪ দশমিক ১ শতাংশ টনে নেমে এসেছে। একই সময় ভারতে পণ্যটির চাহিদা ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ৪ টন, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত নিম্ন মূল্য এবং বিয়ে মৌসুমের কারণে দেশটিতে স্বর্ণের চাহিদায় এ উত্থান দেখা গেছে।

ভারতে চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চীনে বিপরীতমুখী প্রবণতা সত্ত্বেও অলঙ্কার তৈরিতে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা ১ শতাংশ বেড়ে ৫৩০ দশমিক ৩ টনে পৌঁছেছে, যার বাজারমূল্য ২ হাজার ২২০ কোটি ডলার।

গত প্রান্তিকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রেও স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। তবে দেশটিতে ইতিহাসের দীর্ঘতম প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে পণ্যটির চাহিদার প্রবৃদ্ধি শ্লথ ছিল।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মধ্যপ্রাচ্যেও স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে ভ্যাট চালুর কারণে এ অঞ্চলে ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্বর্ণের চাহিদা নিম্নমুখী ছিল। তবে গত প্রান্তিকে ইরানে স্বর্ণের চাহিদা ১০ শতাংশ কমেছে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের বার ও মুদ্রার চাহিদা ছিল ২৯৮ দশমিক ১ টন। এক বছরের ব্যবধানে এসব পণ্যের চাহিদা ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের বার ও মুদ্রার চাহিদা ছিল ২৮৮ দশমিক ৪ টন।

চীনে চাহিদা কমলেও ভারতে বৃদ্ধির কারণে গত প্রান্তিকে স্বর্ণের বার ও মুদ্রার বৈশ্বিক চাহিদা বেড়েছে। আলোচ্য প্রান্তিকে ভারতে এসব পণ্যের চাহিদা ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৬ টন। একই সময় চীনে স্বর্ণের বার ও মুদ্রার চাহিদা ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ২ টন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার কোমেক্সে জুনে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমেছে। এ বাজারে দিন শেষে পণ্যটির দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ২৭২ ডলারে স্থির হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ১২ দশমিক ২০ ডলার কম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here