সিংহভাগ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় প্রবৃদ্ধি

ডেক্স রিপোর্ট: ২০১৮ সাল শুরু হয়েছিল ফারমার্স ব্যাংকের অচলাবস্থার খবরে। নতুন প্রজন্মের ব্যাংকটির বিপর্যয় নাড়িয়ে দিয়েছিল পুরো ব্যাংকিং খাতের ভিত। এরপর বছরজুড়ে ছিল ব্যাংক খাতে আমানতের হাহাকার। ছিল ঋণ ও আমানতের সুদহার নিয়ে নজিরবিহীন টানাপড়েন। শেষ ছয় মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও ছিল শ্লথ। তার পরও বছর শেষে ব্যাংকিং খাতের পরিচালন মুনাফা ঊর্ধ্বমুখী। বিদায়ী বছরে দেশের সিংহভাগ সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।

সূত্র বণিক বার্তা

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বরাবরের মতো এবারো পরিচালন মুনাফায় শীর্ষে রয়েছে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক। রেকর্ড ২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে ব্যাংকটি। এছাড়া পরিচালন মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে পূবালী, সাউথইস্ট, ডাচ্-বাংলা, ন্যাশনাল, ব্র্যাক, ব্যাংক এশিয়া, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, প্রিমিয়ার, ইস্টার্ন, এনসিসি, যমুনা, এক্সিম, শাহজালাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ট্রাস্ট, আল-আরাফাহ্, সোশ্যাল ইসলামী, ওয়ানসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের। এবি ব্যাংক, মার্কেন্টাইলসহ কয়েকটি ব্যাংকের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে ফারমার্স ব্যাংক ছাড়া পরিচালন মুনাফা পেয়েছে নতুন প্রজন্মের অন্যান্য ব্যাংকও।

বেসরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি ভালো পরিচালন মুনাফা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। তবে জনতা ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ২০১৭ সালের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আর লোকসান গুনেছে বিপর্যস্ত বেসিক ও ফারমার্স ব্যাংক।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল হালিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়াকড়ির কারণে ব্যাংকগুলো বছরের শেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনেছে। এ কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। পূবালী ব্যাংক সবসময়ই স্থিতিশীল বিনিয়োগে বিশ্বাসী। ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করায় ২০১৮ সালে পূবালী ব্যাংকের নিট মুনাফা বাড়বে।

বিদায়ী বছরে ১ হাজার ২ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে সাইথইস্ট ব্যাংক। ২০১৭ সালে ৯০৬ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফায় ছিল ব্যাংকটি। খেলাপি ঋণ আদায়, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও ট্রেজারি বিভাগের সতর্কতার কারণে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে বলে মনে করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন।

তবে বিদায়ী বছর ভালো কাটেনি বেসরকারি খাতের অন্যতম ব্যাংক দ্য সিটির। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল আরকে হুসাইন বলেন, নির্বাচনী বছর হওয়ায় ২০১৮ সালে দেশের বড় করপোরেটগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণ করেনি। এ কারণে বছরের শেষ ছয় মাস বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়েনি। নির্বাচন শেষ হওয়ায় ২০১৯ সালে দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। সব মিলিয়ে নতুন বছর দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য আশীর্বাদ হবে।

ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী রেজা ইফতেখার বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণের উচ্চহার। ২০১৬ সাল থেকে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিয়েছে। একইভাবে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করছে। এ ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের ব্যাংকিং খাত শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে।

জনতা ব্যাংকের এমডি মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, আমানতের সুদহার নিয়ে টানাহেঁচড়ার কারণে জনতা ব্যাংকের প্রায় ২০০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এননটেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের বড় ধাক্কা সত্ত্বেও আমরা প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছি। বিপিসির এলসি খুলতে গিয়ে ডলারের দামে তারতম্যের কারণে আমাদের বেশ লোকসান দিতে হয়েছে। আশা করছি, ২০১৯ সালে আমরা ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াব।

রূপালী ব্যাংকের এমডি মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ২০১৭ সাল শেষে রূপালী ব্যাংকের লোকসানি শাখা ছিল ৩৩টি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা লোকসানি শাখা ৯টিতে নামিয়ে আনতে পেরেছি। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় সম্ভব হয়নি।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ১১৬ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ১১৫ কোটি টাকা। লুটপাটের শিকার বেসিক ব্যাংক প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। সূত্র বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here