সাড়ে ৯ কোটি হিসাবের মধ্যে ৬ কোটির বেশি নিষ্ক্রিয়!

  • মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিন লেনদেন ১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ লেনদেন সহজ বলে দিন দিন বাড়ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা। কিন্তু বেশিরভাগ গ্রাহক নিবন্ধন করে কোন রকম লেনদেন করছেন না। আর এ কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে অসংখ্য হিসাব। এ ধরনের হিসাবের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৬ কোটি ৩১ লাখ ২৩ হাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি বছরের অক্টোবর শেষে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার। এরমধ্যে সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা মাত্র ৩ কোটি ৩২ লাখ ২৩ হাজার।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। চলতি বছরের অক্টোবর শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৬৪ লাখ ১৬ হাজার। যা তার আগের মাস সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ কোটি ৪৭ লাখ ৮৭ হাজার। অর্থাৎ এক মাসে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ১৬ লাখ ২৯ হাজার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ধারাবাহিক বাড়লেও সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা উল্টো কমেছে। টানা তিন মাস একবারও লেনদেন করেনি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় হিসাব বলে গণ্য করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে অক্টোবর শেষে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ ২৩ হাজার, যা মোট গ্রাহকের ৩৪ শতাংশ। আগের মাস সেপ্টেম্বরে সক্রিয় গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার।

জানা গেছে, ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারী খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এদিকে করোনাভাইরাসের এ দুর্যোগকালীন সময়ে গ্রাহকের কাছে মোবাইলের লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমএফএস লেনদেনের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ওষুধ ক্রয়ের কোন ধরনের চার্জ না কাটার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যক্তি হতে ব্যক্তি (পি-টু-পি) লেনদেনে (যে কোন চ্যানেলে) এ নির্দেশনা মানতে হবে। একইসঙ্গে লেনদেন সীমা ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া দৈনিক এক হাজার টাকা ক্যাশ আউট সম্পূর্ণ চার্জবিহীন রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া আগে যেখানে দিনে ২ বারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ক্যাশইন করা যেত। এখন তা বাড়িয়ে দিনে ৫ বার সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ক্যাশইন করা যাবে এবং মাসে ২৫ বারে করতে পারবে ২ লাখ টাকা। আর দিনে ৫ বার সর্বোচ্চ ক্যাশআউট করা যাবে ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে ২০ বার দেড় লাখ টাকা ক্যাশআউট করা যাবে। পাশাপাশি একজন গ্রাহক তার ব্যক্তি মোবাইল হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা স্থিতি রাখতে পারবেন।

তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে অর্থ লেনদেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ব্যাংকিং। অক্টোবর মাসে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। যা আগের মাস সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। একক মাস হিসেবে অক্টোবরে লেনদেন হয়েছে ৫৩ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। এর আগে জুলাই মাসে রেকর্ড ৬৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয় ডিজিটাল এ মাধ্যমে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুত, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিটেন্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে।

অক্টোবরে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১৮ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। এ সময়ে উত্তোলন করেছে ১৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। যা আগের মাস সেপ্টেম্বরের চেয়ে টাকা জমা পরিমাণ বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং উত্তোলন বেড়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অক্টোবর মাসে এমএফএসে রেমিটেন্স সংগ্রহ করেছে ১১৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। যা আগের মাসের চেয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। সেপ্টেম্বর মাসে রেমিটেন্স এসেছিল ১১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১৬ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। মাসের ব্যবধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে এক হাজার ৯১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অক্টোবরে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮৬ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে এক হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। সরকারী পরিশোধ মাসের ব্যবধানে ৩৮১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here