সারাবিশ্বে তাঁতের শাড়িকে পরিচিত করাতে চান মনিকা আহমেদ

মনিকা আহমেদ বলেন, আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি তখন থেকেই আমার হাতের কাজ, ব্লক,বাটিকের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। তখনি আমার মনে হতো আমি বড় হয়ে বুটিকস্ আইটেম নিয়ে কাজ করবো। আমি হোম ইকোনোমিকস কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন  করেছি গৃহ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে। ২০০৬ সালে আমার বিয়ে হয়ে যায় পড়াশুনা করা অবস্থায়। অনার্স শেষ করার করার পর ২০১০ সালে আমার মেয়ের জন্ম হয় এবং মাস্টার্স করা অবস্থায় ২০১২ সালে আমার ছেলের জন্ম হয়। দুই ছেলেমেয়েকে সময় দিতে গিয়ে আমার আসলে বাইরে চাকরি করা হয়ে ওঠেনি কিন্তু মনের মধ্যে তীব্র ইচ্ছা ছিল যে আমাকে কিছু একটা করতে হবে।

বাচ্চাদের পেছনে সময় দিতে গিয়ে আমি অনলাইনে পুরোপুরি সময় দিতে পারতাম না। আমার বাচ্চারা যখন কিছুটা বড় হলো তখন আমি ফেসবুক ব্রাউজ করতাম এবং দেখতাম অনেক মেয়েরাই অনলাইন ব্যবসা করছে। তখনই আমার মনে হলো যেহেতু আমার দু’টি বাচ্চা আছে তাই আমাকে এমন কিছু করতে হবে যেন কাজ করতে গিয়ে আমার বাচ্চাদের কোন ধরনের সমস্যা না হয়।

এই চিন্তা করার পর আমার  অনলাইন ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু মাথায় আসেনি।  আমি মূলত ২০১৭ সালের ১৭ ই এপ্রিল অনলাইনে পেইজ খুলে ব্যবসা শুরু করি। একটা শোরুম নেওয়াকে কেন্দ্র করে আমি প্রায় আট লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়ে যাই।  তখন মোটামুটি মনে মনে ঠিক করেছিলাম যে ব্যবসাটা ছেড়ে দেব। আবার খারাপও লাগছিল এই ভেবে যে,আমার এতো ভালোলাগার জায়গাটা আমি ছেড়ে দেব? আমি এটাও মানতে পারছিলাম না।

বেশ কিছুদিন সময় নিয়ে চিন্তা করলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমি আমাদের দেশীয় তাঁতের শাড়ি নিয়ে কাজ করব। এরপরই আমি নতুনভাবে ২০১৮ সালের ২৭শে ডিসেম্বর আমার “কন্যাসুন্দরী” পেইজটা খুললাম এবং তাঁতের শাড়িতে ব্লক,বাটিক ও স্ক্রিনপ্রিন্টের কাজ শুরু করলাম। আমার পেইজ ভালোই চলছিল।

কিন্তু তারপরও আমি মনে মনে এমন একটা প্লাটফর্ম চাচ্ছিলাম যেখানে নারীরা নিরাপদে কাজ করতে পারবে। নিজের কাজ সবার কাছে পরিচিত করতে পারবে। খুঁজতে খুঁজতে একদিন পেয়েও গেলাম এমন একটা গ্রুপ যার নাম ” উইমেন অ্যান্ড ই কমার্স ফোরাম “।

দেশীয় পণ্য সম্পর্কে জানার জন্য উই গ্রুপটা সেরা। এই গ্রুপে প্রতিনিয়ত সবাই দেশীয় পণ্য সম্পর্কে সবাইকে জানাচ্ছে। উই গ্রুপের মূল কথা হলো ” আগে জানুন, শিখুন তারপর ব্যবসা শুরু করুন”।

সরাসরি তাঁতীদের কাছ থেকে নিজে ডিজাইন দিয়ে শাড়ি তৈরি করে আনেন মনিকা। নিজে সব কাজ করায় বেশ সাশ্রয়ী দামেই শাড়িগুলো ক্রেতার কাছে পৌছে দিতে পারেন তিনি। ভবিষ্যতে  কন্যাসুন্দরীকে দেশীয় পণ্যের একটা প্রতিষ্টিত ব্র্যান্ড হিসেবে সারাবিশ্বে তাঁতের শাড়িকে পরিচিত করাতে চান মনিকা আহমেদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here