সাফকো স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন সংক্রান্ত আবেদনটির নিস্পত্তি করতে বিএসইসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন সংক্রান্ত আবেদনটির নিস্পত্তি করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি সেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও দূর্নীতিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে দুজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী মজিবর রহমান এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন মহামান্য হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করেছেন। গত মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট রীট পিটিশনটির শুনানী সম্পন্ন হয়েছে।

রীট পিটিশনের শুনানী শেষে কোম্পানিটির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে সেখানে ২ শতাংশ বা তার অধিক শেয়ার ধারনকারীদের অন্তর্ভূক্ত করতঃ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আবেদনটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিস্পত্তি করার জন্য মহামান্য হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিএসইসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন।

সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেডের সরেজমিন চিত্র

এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি সাফকো স্পিনিং মিলস লিমিটেড ২০০০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ভালো ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এরপর চার বছর কোন রকমে ২ থেকে ৩ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিলেও গত দুই বছর বিনিয়োগকারীদের কোন ডিভিডেন্ড দেয়নি।

বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড না দেয়ায় ৩ বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি ভুল তথ্য দেয়ার পাশাপাশি লোকসান দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের ঠকাচ্ছে। ফলে কোম্পানির প্রকৃত অবস্থা জানতে বিএসইসির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

সম্প্রতি মো. মামুন অর রশিদ, মজিবুর রহমান ও মমিনুল ইসলাম নামে তিন বিনিয়োগকারী বিএসইসিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত এ অভিযোগে বলা হয়েছে, বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বোনাস শেয়ার দিয়েছে। মাঝখানে ২০১৫ সালে তারা বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি। পরবর্তীকালে ২০১৯ ও ২০২০ সালে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড বঞ্চিত করে। কারণ হিসাবে ব্যবসায় লোকসান হওয়ার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা মনে করে, তথ্যটি সঠিক নয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানির দুটি ইউনিটই এখন পুরোদমে চলছে। সেখানে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক কর্মচারী কাজ করছেন। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির লোকসানে থাকার প্রশ্নই আসে না। তারা জানান, কোম্পানি যে আর্থিক প্রতিবেদন দিয়েছে তা আমাদের কাছে স্বচ্ছ নয়। এটা নিজেদের ইচ্ছেমতো ও পরিচালকরা লাভবান হওয়ার জন্য করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য উৎপাদনের খরচ (কস্ট অফ প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালস) বেশি দেখানো হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এ খরচ দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে চার কোটি ৪২ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে, যা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। একইভাব অভিযোগপত্রে বিদ্যুৎ বিলসহ অন্য খরচের যে হিসাব দেখানো হয়েছে তাও অস্বাভাবিক। এ কারণে দক্ষ নিরীক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির হিসাব খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বেশ ভালো ছিল। এ সময় কোম্পানির মুনাফা ছিল এক কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০১৯ সাল থেকে হঠাৎ লোকসানে চলে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ সালে লোকসান এক কোটি ৪৫ লাখ টাকা। পরের বছর তা আরও বেড়ে হয় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here