সজাগ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মিলেছে অর্থমন্ত্রী আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পুঁজিবাজার ডাউনট্রেন্ড চলছে। গত সাড়ে তিন মাসে সূচক কমেছে প্রায় ৮০০ পয়েন্ট বা ১২%, লেনদেন কমেছে উল্লেখযোগ্য হরে। এডি রেশিও, মানি মার্কেটে লিকুইডিটি সংকট, ইন্টারেস্ট রেট হঠাৎ উচ্চ হারে বৃদ্ধি(প্রায় ৫%), রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশংঙ্কা, সর্বশেষ স্ট্যাটিজিক পাটনার ইস্যূকে কেন্দ্র করে মার্কেট ডাউনট্রেন্ড চলে যায়। যা এখনও চলমান।

এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মিলেছে  অর্থমন্ত্রী আশ্বাস। সূত্র ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক।

ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, “গতকাল অর্থ মন্ত্রাণালয়ে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণর, বিএসইসির চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে ডিবিএর প্রস্তবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রস্তাবনাগুলো অর্থ মন্ত্রাণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যত দ্রুত সম্ভব প্রস্তাবনা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, ব্যাংলাদেশ ব্যাংক এই প্রস্তাব যত দ্রুত বিবেচনায় নিবে, তত দ্রুতই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে  বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) একযোগে কাজ করছে। গত বুধবার বিএমবিএ,ডিবিএর প্রস্তাবগুলো অর্থমন্ত্রী উপস্থিতে পর্যলোচনা করে অর্থমন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবনা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

এই প্রস্তাবনা বাংলাদেশ ব্যাংক মেনে নিলেই পুঁজিবাজার প্রাণ ফিরে পাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োকারীদের বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিএমবিএর সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ডিবিএ ও বিএমবিএর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

পুঁজিবাজারে চলমান সংকট উত্তরণে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের(বিএমবিএ) পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো  বিশেষ বিবেচনায় অর্থ মন্ত্রণালয় তা মেনে নিয়েছে। ২১ মার্চ বুধবার এই নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন(বিএসইসি) এবং অর্থমন্ত্রণালয় জরুরী বৈঠক করেছে। বৈঠক অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দিয়েছেন।সূত্র ডিবিএ সভাপতি। প্রস্তাব নিন্মে ঊল্লেখ করা হলো

  • ব্যাংকের পুঁজিবাজার এক্সপোজার লিমিট গণনা করার ক্ষেত্রে শেয়ারের বাজার মূল্য অনুযায়ী গণনা না করে ক্রয় মুল্যের ভিত্তিতে গনণা করা।
  • ব্যাংক তার পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সাবসিডিয়ারিকে প্রদত্ত ঋনের যে অংশ ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করে তা পুঁজিবাজারে এক্সপোজার হিসেবে না করে শুধুমাত্র উক্ত ঋনের যে অংশ পুঁজিবাজারে বিভিন্ন সিকিউরিটেজে বিনিয়োগ করা হয়। তাই উক্ত ব্যাংকে প্রকৃত পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে গণনা করা।
  • দাবি গুলো হচ্ছে-পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন বন্ড ডিবেঞ্চার প্রেফারেন্সিয়াল শেয়ার ও অতালিকাভূক্ত মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে ব্যাংকের এক্সপোজারের হিসাবের বাইরে রাখা।
  • কৌশলগত বিনিয়োগ যা পুরো মেয়াদকাল পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে এবং যে সব সিকিউরিটিজের লেনদেন হয় না। সেই সব সিকিউরিটিজকে এক্সপোজার গণনা থেকে বাদ দেয়া।
  • আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ডিবিএ সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক, সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ, বিএমবিএ’র সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী, ডিবিএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফ আনোয়ার হোসেন এবং সহ-সভাপতি ড. জহির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here