রহিমা ফুডকে তালিকাচ্যুতির তথ্য জানাতে ডিএসইকে নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : বহুল আলোচিত রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেডকে তালিকাচ্যুত করার তথ্য চেয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

তিন কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাচ্যুতির সকল প্রক্রিয়া ও তার প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চেয়ে গত বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর বিএসইসি থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিটি রবিবার, ১৫ নভেম্বর বিকেলে ডিএসইর কাছে পৌঁছেছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসইর একাধিক কর্মকর্তা জানান, তারা কোম্পানির তথ্য প্রস্তুত করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনের কাছে তুলে ধরবেন। তারা বলেন, বৃহস্পতিবার বিএসইসির পক্ষ থেকে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। ওই ই-মেইল দেখেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। রবিবার বিকেলে চিঠি পেয়েছি।

এদিকে একই দিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষকে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই আলোকে সিএসই রবিবার থেকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা লেনদেনের কার্যক্রম চালু করেছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে কারখানা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই রহিমা ফুড করপোরেশনকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ রহিমা ফুডকে তালিকাচ্যুতির পরিবর্তে লেনদেন স্থগিত করে রাখে।

২০১৮ সালের ১৮ জুলাই ডিএসইতে রহিমা ফুডের শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছিল ১৭৪ টাকা ৩০ পয়সায়। কোম্পানিটির মোট শেয়ার ২ কোটি ২০০টি। এর ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশের মালিক উদ্যোক্তা-পরিচালকরা। বাকি শেয়ারের প্রায় ৩৭ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

অন্য শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে রয়েছে। কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম অন্তত তিন বছর ধরে বন্ধ। স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুই বছর পর রহিমা ফুডের তালিকাচ্যুতিকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বিষয়ে ডিএসইর কাছে ব্যাখ্যা ও সুপারিশ চেয়েছে বিএসইসি।

ডিএসইকে দেওয়া এ সংক্রান্ত চিঠিতে তালিকাচ্যুতির আগে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের দায়িত্ব সম্পর্কে জানাতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কোম্পানির অনিচ্ছায় তালিকাচ্যুতির ক্ষেত্রে ডিএসইর বিস্তৃত কোনো পদ্ধতি আছে কিনা, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়াও তালিকাচ্যুত রহিমা ফুড ও কোম্পানিটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে লিস্টিং আবেদন ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এর ধারা ৯ (৪) এর শর্ত পরিপালন না করায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাপারেও জানতে চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে তালিকাভুক্তির চুক্তি ও তালিকাভুক্তিকালীন দেওয়া শর্ত ভঙ্গ করার জন্য কোম্পানি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা স্বীকৃত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকলে, তাও জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে সিএসইতে রবিবার, ১৫ নভেম্বর রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৭৭ টাকায়। আর সোমবার লেনদেন হয়েছে ১৭৫ টাকা ৪০ পয়সায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here