রডের দাম ঊর্ধ্বমুখী

ডেক্স রিপোর্ট: দেশের বাজারে রডের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি দফায় দফায় দাম বাড়ছে পণ্যটির মূল্য। দেশের ইস্পাতের চাহিদার বেশির ভাগ জোগান আসে চট্টগ্রাম থেকে। সাধারণত শুষ্ক মৌসুমে দেশের নির্মাণ শিল্পে বেশ চাঙ্গাভাব দেখা যায়। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে গতি পায় নির্মাণ শিল্প। ফলে চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়তে থাকে রডের। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে রড ও রডের কাঁচামালের দরবৃদ্ধিও এক্ষেত্রে বড় একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু পাইকারি পর্যায়েই পণ্যটির দাম বেড়েছে টনে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

বর্তমানে মিল গেটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি টন সাধারণ গ্রেডের (৪০০ ওয়াট) এমএস রড বিক্রি হচ্ছে ৫১-৫২ হাজার টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগেও মিল গেটে একই মানের রড বিক্রি হচ্ছিল ৪৭ হাজার থেকে সাড়ে ৪৭ হাজার টাকার মধ্যে। সে হিসাবে এ সময়ের মধ্যে সাধারণ গ্রেডের রডের দাম বেড়েছে টনে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

একই সময়ের সেমি অটো (৬০ গ্রেড বা ৫০০ ওয়াটের সিল থাকলেও যেসব রড সেমি অটো মিলে উৎপাদন হয়) এমএস রডের দাম টনে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি টন সেমি অটো রড বিক্রি হচ্ছে ৫৩-৫৪ হাজার টাকার মধ্যে, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫০-৫১ হাজার টাকার মধ্যে। চট্টগ্রামের বাজারে সাধারণ গ্রেড ও সেমি অটো এমএস রডের মধ্যে বলাকা, খলিল, মজিদ, ভাটিয়ারি, এসএল, এমএসআরএম (মানতি), আম্বিয়া ব্র্যান্ডের রডের চাহিদা ও বিক্রি বেশি।

রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা জানান, গত সপ্তাহে রডের বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানের রডের দাম বেড়েছে বেশি। নির্মাণ শিল্পে চাঙ্গাভাবের কারণে বাজারে এখন এসব রডের চাহিদা বেশি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহের গতি কম হওয়ায় বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছে দ্রুত। মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি পর্যায়ের ক্রেতাদের মধ্যেই এ ধরনের রডের চাহিদা থাকে বেশি।

ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও বিলেটের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অন্যদিকে গত মাসে নির্বাচনের কারণে নির্মাণকাজে গতি ছিল কম। বর্তমানে বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণকাজের গতি বাড়ায় চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে রডের দামও বেড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here