যৌথ বিনিয়োগকারী অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও বিসিআইসি সহযোগিতা করছে না : মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ

স্টাফ রিপোর্টার : বিসিআইসি যৌথ বিনিয়োগকারী অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও কোন রকম সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। মিরাকেলের দুর্দিনে বিসিআইসি চরম উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি অনুযায়ী মিরাকেল থেকে ব্যাগ ক্রয় করার কথা থাকলেও ২০০৭ সাল থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ব্যাগ ক্রয় করে বিসিআইসি। মিরাকেলকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতই সিকিউরিটি জামানত জমা ও সব ধরনের নিয়মনীতি পূরণ করে প্রতিযোগীতায় দরপত্রে অংশ গ্রহণ করতে হয়। শুধুমাত্র সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় মিরাকেল বিসিআইসির অর্ডার পায়। নৈতিক বিবেচনা থেকেও মিরাকেল সবসময় নূন্যতম মূ্ল্যে বিসিআইসিকে ব্যাগ সরবরাহ করে। ফলে বিসিআইসি আর্থিকভাবে যথেষ্ট লাভবান হলেও মিরাকেল আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হয়।

সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং ব্যাগ উৎপাদন করতে গিয়ে মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রচুর অর্থ খরচ হয়। এছাড়াও কারখানায় উন্নতমানের মেশিনারিজ স্থাপন করা হয়েছে। বিএমআরই প্রোগ্রাম, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণে কমপ্ল্যায়েন্স সংক্রান্ত কর্মকান্ড সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে অনেক কেপিটাল ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে। এদিকে একই সময়ে ব্যাংক ঋণ সহায়তা ও সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেয়। ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কোম্পানির কার্যকরী মূলধন সংকট দেখা দেয়। যার দরুন কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

কেন কোম্পানির এই অবস্থা এমন প্রশ্নের জবাবে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমান অর্ডার থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ওয়ার্কিং কেপিটালের অভাবে কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যাংক এল/সি করতে না দেয়ায় কেবল মাত্র অঙ্গীকার রক্ষা করার জন্য লোকাল মার্কেট থেকে বেশি মূল্যে কাচাঁমাল কিনে বিসিআইসি ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন অর্ডারের ব্যাগ সরবরাহ করতে গিয়ে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়েছে মিরাকেলকে।

মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ বিভিন্ন উৎস থেকে চলতি মুলধন সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ১৫৩ তম মিটিং-এ চলতি মুলধনের স্বল্পতার বিষয়টি বোর্ডকে জানানো হয়। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মিরাকেল কর্তৃপক্ষ বিসিআইসিকে পাঁচ কোটি টাকা অগ্রীম অথবা ঋণ দেয়ার অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে কিস্তিতে পরিশোধ বা বিসিআইসির সারের ব্যাগের অর্ডারের মূল্যের সাথে সমন্বয় করা হবে। মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ বিভিন্ন সময়ে এ ঋণ দিতে বিসিআইসিকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু আর্থিক সহযোগিতা চাওয়ার চার মাস পর বিসিআইসি মিরাকেলকে ঋণ দিতে অপারগত জানায়। ইতোমধ্যে চলতি মূলধনের অভাবে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। এদিকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক তাদের পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে মিরাকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সময়ে সতর্কীকরণ পত্র দিয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি বিসিআইসির চেয়ারম্যানকে যথারীতি অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজ মনে করে কোম্পানির এমন একজন ব্যক্তি চেয়ারম্যান হওয়া উচিত যাকে যে কোন বোর্ড মিটিংয়ে স্বল্প সময়ের নোটিশে পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজে স্পন্সর ডিরেক্টরদের শেয়ার ১০ শতাংশ, বিসিআইসির শেয়ার ২০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৭০ শতাংশ। বিসিআইসি ও মিরাকেল ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান একই ব্যক্তি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের রুলস অনুযায়ী মিরাকেলকে এজিএম করতে হলে বিসিআইসি ও এর সিসটার কনসার্নের মোট দুজন ডিরেক্টর উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু বিসিআইসি’র তিনজন পরিচালকের একজনও উপস্থিত না থাকায় শনিবারের, ২১ ডিসেম্বর এজিএম এডজর্ন হয়ে যায়।

এদিকে এজিএম এডজর্ন হওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিসিআইসির চেয়ারম্যান, পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here