মোজাফফর স্পিনিংয়ের নতুন “রিং স্পিনিং ইউনিট” চালু মার্চের মধ্যে

স্টাফ রিপোর্টার: ব্যবসা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিজস্ব উৎস ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে  ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি নতুন রিং স্পিনিং ইউনিট চালুর ঘোষণা মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড। ২০১৭ সালর মে মাসে নতুন এ ইউনিটের কাজ শেষ হয়। তবে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে ইউনিটটি চালু করতে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যেই নতুন ইউনিটের সব কাজ শেষ করে ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের কোম্পানি সচিব হারিস আলম বলেন, নতুন ইউনিটের কাজ শেষ হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রপাতিও কারখানায় এসে পৌঁছেছে। তবে যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের জন্য বেশ কিছুটা সময় লাগছে। এ কারণে গত মে মাস থেকেই বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। ফলে গত হিসাব বছরের প্রায় দুই মাসসহ চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে অর্ধেক সক্ষমতায় উৎপাদন করতে হচ্ছে। এ বছরের মধ্যেই নতুন ইউনিটটি চালুর পরিকল্পনা থাকলেও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করছি আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ মার্চের মধ্যেই নতুন ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলসের নিরীক্ষক এমফেসিস অব ম্যাটারে জানিয়েছেন, কোম্পানিটির ৩৬ হাজার স্পিন্ডল রিং স্পিনিং মিলের কাজ চলমান রয়েছে। পাওয়ার আপগ্রেডেশন ও গ্যাস স্বল্পতার কারণে এ বছরের মে মাস থেকেই কারখানার ৫০ শতাংশ রোটর মেশিন বন্ধ আছে। এ কারণে দৈনিক উৎপাদন প্রভাব পড়তে পারে।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের পর্ষদ। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫১ পয়সা, যা এর আগের হিসাব বছরে ছিল ১ টাকা ৬০ পয়সা। ৩০ জুন এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সা।

এদিকে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ পয়সা। যেখানে আগের বছর একই সময়ে এর শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সা।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৪ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ৯ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ২০৩।  উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৩৯ দশমিক ৬১ শতাংশ, প্রতিষ্ঠান ২৬ দশমিক ৯০, বিদেশী শূন্য দশমিক শূন্য ৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৩৩ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার।

ডিএসইতে শেয়ারটি সর্বশেষ সর্বেোচ্চ ১২ টাকা ৩০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১১ টাকা ৭০ পয়সা এরমধ্যে উঠানামা করছে।  গত এক বছরে ডিএসইতে এর সর্বনিম্ন দর ছিল ১১.০০ টাকা ০০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ২১ টাকা ০০ পয়সা।`

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here