মে মাসে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। তাতে ধস থেকে জেগে উঠছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। গত মে মাসে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রপ্তানি আয় বেড়েছে। এই মাসে রপ্তানি আয়ে ১১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা রপ্তানি আয়ের বড় উল্লম্ফন। তবে তাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও উচ্ছ্বসিত হওয়ার মতো বাস্তবতা নেই। কারণ করোনার প্রথম ধাক্কায় গত বছরের ওই সময়টায় রপ্তানি আয় তলানীতে নেমেছিল। আয়ের ভিত্তি অনেক কম থাকায় রপ্তানি কিছুটা বাড়াতেই প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি দেখাচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩১১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য। গত বছরের মে মাসের রপ্তানি আয় ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। এ হিসেবে গত বছরের মে মাসের তুলনায় এ বছরের মে মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১১২ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে আগের বছরের মে মাসে তুলনায় রপ্তানি ৬৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

সবমিলে গত ১১ মাসের সার্বিক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫১৮ কোটি ডলার, আগের ২০১৯–২০ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি।

তবে ১১ মাসে ১৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও রপ্তানি আয়ের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। কারণ চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বছরের শেষ মাস তথা চলতি জুনে আরও ৫৮২ কোটি ডলার রপ্তানি আয় করতে হবে। এটা প্রায় অসম্ভব।

উল্লেখ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। তার আগের বছর রপ্তানি হয়েছিল ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী, গত ১১  মাসে মোট ২ হাজার ৮৫৬ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। এই সময়ে নিট পোশাকের রপ্তানি আয়ে সাড়ে ২০ এবং ওভেন পোশাকে ১ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

আলোচিত সময়ে প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রপ্তানি আয়ে সবচেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিতে, যা ৩৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। এই খাতে অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ১০৮ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

গত ১১ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যেও। এই খাতে ৮৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারম মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

বর্তমান অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে হিমায়িত খাদ্যের সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে দশমিক ৯৮ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ৪৩ কোটি ডলার। এর মধ্যে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে ২৮ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here