মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানা পরিবর্তনের গুনজন

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানিটির কারখানা বন্ধ রয়েছে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে। ডিএসই ও কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গুনজন উঠেছে কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে। কোম্পানির একাধিক কর্মকর্তা পরোক্ষভাবে এ কথা জানিয়েছেন। তবে কোম্পানি সচিব দেওয়ান মো. জাহিদুল ইসলাম বলেছেন ভিন্ন কথা। কোম্পানির মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্টক টাইমসের এই প্রতিবেদককে।

২০০০ সালে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ তালিকাভূক্ত হলেও মূলত কোম্পানির প্রফাইল থেকে জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যতবার ডিভিডেন্ড দিয়েছে ততবারই স্টক (বোনাস) ডিভিডেন্ড দিয়েছে।  ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কোন ডিভিডেন্ড দেয়নি কোম্পানিটি। তবে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয়া হয়েছে; যা তিনি কোম্পানির কাগজপত্র ঘাটাঘাটি করে এই তথ্য পেয়েছেন।

তিনি বলেন, কোম্পানিটি মূলত দুই ধরনের ব্যাগ অর্থাৎ ডাব্লিউপিপি ও এফআইবিসি উৎপাদন করতো। এরমধ্যে ডাব্লিউপিপি ব্যাগ অভ্যন্তরিন বাজারে সরবরাহ করা হতো। এবং এফআইবিসি যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়ামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক্সপোর্ট করা হতো। কোম্পানিটি এক্সপোর্ট করে বেনিফিট যা পাওয়া দরকার তাই পাচ্ছিল। কিন্ত সমস্যা হয়েছে অভ্যন্তরিণ বাজারে। ডাব্লিউপিপি ব্যাগের ক্ষেত্রে প্রডাকশন (উৎপাদন) কষ্ট অনুযায়ী মুনাফা পাচ্ছিল না কোম্পানিটি। যেকারণে দিনকে দিন প্রতিযোগীতার বাজারে টিকতে পারেনি কোম্পানিটি।

তিনি আরও বলেন, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে লোন নিয়ে জর্জরিত কোম্পানি। ব্যাংকটি মোট ৪১ কোটি টাকা পেতো মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে। রিশিডিউল করার পর বর্তমানে ৩৯ কোটি টাকা পাবে ব্যাংকটি। এই টাকা কোন পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে তা জানতে চেয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কোম্পানিটি। ব্যাংকটি থেকে চিঠির জবাব পাওয়ার পর লোন পরিশোধ করবে কোম্পানি।

এছাড়াও বিসিআইসি’র সঙ্গে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের একটি চুক্তি নিয়ে ঝামেলা হওয়ার কারণেও কোম্পানিটি দিনকে দিন অধ:পতনের দিকে চলে গেছে বলে জানান কোম্পানি সচিব।

এখন নতুন ম্যানেজমেন্ট আসলেই কেবল কোম্পানিটি এই অধ:পতন থেকে উৎরাতে পারবে বলে মনে করেন কোম্পানির এক কর্মকর্তা।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঘাটতি থাকার কারণে গাজীপুরের শ্রীপরে অবস্থিত কোম্পানির কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত চলতি মাসের অক্টোবর থেকে পুরাপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কারখানার কার্যক্রম। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত পুরোদমেই কাজ চলেছে কারখানায়। এপ্রিলের পর থেকে ওয়ান অফ ( বন্ধ হতো আবার চালু হতো) করে চলেছে কারখানার কার্যক্রম।

এদিকে কারখানা বন্ধ থাকা মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক প্রবণতা দেখা গেছে। এ বছরের ১ অক্টোবর ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা, যা ২৮ অক্টোবর কমে দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৫০ পয়সায়। এর পর থেকেই আবার কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়তে থাকে এবং ২৬ নভেম্বর দাঁড়ায় ২২ টাকায়।

কারখানা বন্ধের তথ্য প্রকাশ হওয়ার পরও বুধবার, ১১ ডিসেম্বর দুপুর ২ টা ২১ মিনিটি পর্যন্ত  কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২১ দশমিক ৫০ টাকা।

উল্লেখ্য, ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনার জন্য ২১ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ২০ নভেম্বর।

সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৩ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা। ৩০ জুন কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৮৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪১ টাকা ৭১ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here