ভালো অবস্থায় ফিরে আসবে খান ব্রাদার্স : কোম্পানি সচিব

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : অবসায়নের পথে থাকা কুখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে আমানত রেখে বিপাকে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। খান ব্রাদার্সের আমানত ফেরত পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও কোম্পানি সচিব ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) তপন কুমার সরকার বলেছেন ভিন্ন কথা।

তিনি স্টক টাইমসকে বলেন, আমাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পিপলস লিজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পিপলস লিজিংয়ে রাখা আমানত আমরা ফেরত পাবো। তবে কবে নাগাদ ফেরত পাবো এ বিষয়ে এখনই বলতে পারবো না। তিনি বলেন, এই আমানত ফেরত না পেলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ঠিক তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কোম্পানির স্পন্সর ডিরেক্টররাও । কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ৩০ শতাংশ শেয়ার তাদেরও (স্পন্সর ডিরেক্টার) রয়েছে।

তপন কুমার বলেন, এক্সপোর্ট ফল করার কারণে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মুনাফা কমে গেছে। এছাড়াও গ্যাস সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকার কারণেও কোম্পানিটির প্রডাকশন (উৎপাদন) কমে গেছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমরা টিকতে পারিনি। যে কারণে গেল কয়েক বছর কোম্পানি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ২০১৮ অর্থবছরে খান ব্রাদার্স ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। কোম্পানি লোকসানে থাকলে কিভাবে লভ্যাংশ দিবে; তিনি প্রশ্ন রাখেন এই প্রতিনিধির কাছে।

তিনি আরও বলেন, কোম্পানির মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে। ফরেন বায়ার ধরতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোম্পানি আবারও ভালো অবস্থানে ফিরে আসবে বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তিনি আশ্বস্ত করেন।

কোম্পানি সচিব বলেন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বিতর্কিত নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) পিপলস লিজিংয়ে দুই বছর আগে ৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা মেয়াদি আমানত (এফডিআর) রেখেছিল। যখন কি-না পিপলস লিজিংয়ের অবস্থাও ভালো ছিল। খান ব্রাদার্স বুঝতে পারেনি যে অতি অল্প সময়ে পিপলস লিজিংয়ের অবস্থা এত খারাপ হবে।

সূত্রমতে, ২০১৫ সালে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল।পরের বছর ১১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। তার পরের বছর তথা ২০১৭ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস দেয়। ২০১৮ সালে নগদ লভ্যাংশ দিলেও তা নেমে আসে ২ শতাংশে। আর ২০১৯ সালে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশই দেয়নি।

তথ্য মতে, গত ৩০ জুন,১৯ শেষ হওয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানির কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার ৬৫২ টাকা। যা গত বছর একই সময় ছিল ১২ কোটি ৯৩ লাখ ২১ হাজার ৯২৯ টাকা।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ অর্থবছরে (২০১৮-২০১৯) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করেছে ২৫ পয়সা। একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য হয়েছে ১২ টাকা ৬৪ পয়সা। আগামী ২১ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৯) কোম্পানির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ছিলো ১০ পয়সা। এবং আলোচ্য সময়ে সমন্বিত শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য দাড়িয়েছে ১২ টাকা ৫৯ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here