বিমা খাতের উন্নয়নে আইডিআরএ’র জনবল বৃদ্ধি জরুরি

দেশের বিমা খাতের উন্নয়নে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে (আইডিআরএ) জনবল বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সাত হাজার আর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আড়াইশত জনবল থাকলেও ৮৩টি বিমা কোম্পানিকে পরিচালনায় জনবল রয়েছে মাত্র ৮০ জন। তাই এ খাতকে গতিশীল করতে জনবল বৃদ্ধি জরুরি হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় জনবল জরুরি। জনবল ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আইডিআরএ’ও দরকার প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ। দেশের অন্যান্য সংস্থার মতো আইডিআরএ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

জানা গেছে, দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিনে রয়েছে ৬০টি ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে বিশাল জনবল। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাত হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) রয়েছে আড়াইশত কর্মকর্তা-কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানটিতে আরো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। আর দেশে বিমা কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইডিআরএ’র রয়েছে মাত্র ৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। আর এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশিরভাগেরই চাকরি অস্থায়ী। এতো বড় একটি সংস্থার এতো কম জনবলকে নিতান্তই কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমা খাতের বয়স ৫০ বছর পেরিয়ে। খাতটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে দক্ষ জনবল নিয়োগসহ সরকার সংশ্লিষ্ট সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে নাম কাটাতে যাচ্ছে। এখনই খাতটির প্রতি বিশেষ নজর দেয়া দরকার।

আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারসের (পিডব্লিউসি) একটি হিসাব মতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বিমা খাতের অবদান ছিল (প্রিমিয়াম আয়) মাত্র শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর বিমা প্রিমিয়ামে মাথাপিছু ব্যয় বছরে ৯ মার্কিন ডলার (৭৭৪ টাকা), যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম।

বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে ২০২০ সালে জীবনবিমা খাতে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এ বছর লাইফ ফান্ড বা জীবনবিমা তহবিলের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকায়। একই বছর নন-লাইফ বিমা খাতে মোট প্রিমিয়াম আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। সম্পদ দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায়। বিনিয়োগ ছিল সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার বেশি।

আইডিআরএ’র তথ্যানুযায়ী, বিমা খাতে জীবনবিমা পলিসির সংখ্যা ১ কোটির বেশি ৯ লাখের মতো। আর সাধারণ বিমা পলিসির সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি। বিমা খাতে ৩ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি প্রতিনিধি বা এজেন্ট রয়েছেন। বিমা কোম্পানিগুলোতে কাজ করেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

আইডিআরএর এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় বিমা খাত অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ আমাদের প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব। যেখানে এই খাতটিকে পরিচালনার জন্য আমাদের ২৫০ থেকে ৩০০ জনবল প্রয়োজন সেখানে রয়েছে মাত্র ৮০ জন। এতো কম জনবল নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। খাতটিতে সামনে দিকে এগিয়ে নিতে এবং বেগবান করতে দক্ষ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here