বিনিয়োগ করবেন সোনা নাকি শেয়ারবাজারে?—যে পরামর্শ বাফেটের

শেয়ারবাজারে পুঁজি কীভাবে খাটাব, সে পরামর্শ সবচেয়ে ভালো দিতে পারেন বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেটই। শত কোটিপতি এই বিনিয়োগকারী সব সময় ভালো মানের শেয়ার কম দামে কিনতে পড়তে থাকা বাজারকেই প্রাধান্য দেন। এসব শেয়ার তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাখেন। এবং একটি টেকসই সময়ে বেশ ভালো রিটার্ন পান। ডিজিটাল কারেন্সি বিটকয়েন এবং সোনার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। তবে বাফেটের পরামর্শ মানলে কম দামে বিভিন্ন ধরনের শেয়ার কেনা আরও লাভজনক দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ হতে পারে।

পড়তি বাজারে বাফেট যেভাবে বিনিয়োগ করেন

শেয়ারবাজারে ধসের পর সব শেয়ারের দাম যখন কমে যায়, তখন কেবল সস্তা শেয়ার কেনেননি ওয়ারেন বাফেট। ভালো মানের শেয়ারগুলো কিনেছেন যখন তাদের তুলনামূলক বেশ কম। যারা ছাড় দেয় বা যাদের কোম্পানির শেয়ারের দর সর্বোচ্চ কমে যায় এমন কোম্পানি নয়। বাফেটের পরামর্শ হলো, এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা উচিত, যারা সবচেয়ে ভালো কোম্পানি, তাদের সাধ্যের তুলনায় কম দামে বাণিজ্য করে। শেয়ারবাজারের ধস এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনুভূতি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হওয়ার অর্থ শক্তিশালী কোম্পানিগুলো সাময়িকভাবে কম দামে ব্যবসা করছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কোম্পানিগুলো ঘুরে দাঁড়ায়।

২০২০ সালে স্বর্ণ ও বিটকয়েনের কেন এত বিনিয়োগ

২০২০ সাল ছিল স্বর্ণ ও ডিজিটাল কারেন্সিতে বিনিয়োগের রমরমা সময়। করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চিত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বল্প সুদের হারের কারণে সোনার দাম এই বছর রেকর্ড উচ্চে ওঠে। এ বছরের ২৭ জুলাই প্রথম ৯ বছরের রেকর্ড ভাঙে স্বর্ণের দাম। সেদিন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স (১ আউন্স সমান ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম) সোনার দাম বেড়ে হয় ১ হাজার ৯৪৪ ডলার। এর আগে ২০১১ সালে প্রতি আউন্স সোনার দাম উঠেছিল ১ হাজার ৯২১ ডলারে। এরপর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম, আগস্টে দামে হয় নতুন রেকর্ড। প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৭২ ডলার ৫০ সেন্ট পর্যন্ত উঠে যায়। এরপর কিছুটা কমতে থাকে দাম। আগস্টের ওই দামের পরে বছরের শেষে এসে এখন পর্যন্ত দাম কমেছে ১৫ শতাংশ।

মূলত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে তীব্র অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ায় সেফ হ্যাভেন হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ে। বিনিয়োগকারী প্রতিরক্ষামূলক আচরণ করতে থাকে। অন্যদিকে বিটকয়েনের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, প্রচলিত অর্থনৈতিক ধারার সঙ্গে এর সম্পর্ক কম থাকায় এটিকে নিরাপদ মনে করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

২০২১ সালে বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের যে পরামর্শ নিতে পারেন

তবে ওয়ারেন বাফেটের কৌশল ব্যবহার করে ধসের পর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে তা স্বর্ণ ও বিটকয়েনের চেয়ে অধিক রিটার্ন দিতে পারে। এটা খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার যে বড় ধরনের ধসের পর সব সময়ই শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ভালো মৌলভিত্তি দেখে ভালো মানের শেয়ার কেনা বিটকয়েনে বিনিয়োগের চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ। বিটকয়েনের দাম বিনিয়োগকারীদের অনুভূতির ওপর ভিত্তি করে হয়। অপর দিকে স্বর্ণের দাম এ বছরের শেষ থেকেই কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এই কমা একক ক্রেতার জন্য সুখবর হলেও বিনিয়োগকারীর জন্য নয়। এ অবস্থায় ওয়ারেন বাফেটের শেয়ারবাজারের পরামর্শ নতুন বছরে ব্যবহার করতেই পারেন বিনিয়োগকারীরা।

এ ছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি চমৎকার পরামর্শ রয়েছে তা হলো ‘নিজের সামর্থ্য বাড়াতে বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ। সবাই তো আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে বড় মুনাফা করতে পারবে না, তাই নিজের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করে অনেকে ভালো ক্যারিয়ার করতে পারে—এসব মানুষের বেলায় এটাই সেরা বিনিয়োগ।’ নতুন বছরে এ পরামর্শটিও মাথায় রাখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here