বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ‘ব্র্যান্ডিং’ করাবে বিডা

বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র (এফডিআই) বরাবরই হতাশার। প্রতিবছর ঘুরেফিরে গড়ে ৩০০ কোটি ডলার এফডিআই আসে দেশে। কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ না আসার পেছনে অনুকূল পরিবেশ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বাংলাদেশ সম্পর্কে দেশের বাইরে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তাই বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে কয়েকটি দেশে প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) নামের প্রতিষ্ঠানটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে উৎসাহী হন। জাপান, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে যাতে বিনিয়োগ নিয়ে আসেন, তাঁদের সামনে এখানকার সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবে বিবিএফ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দুই বছরের জন্য বিবিএফকে দায়িত্ব দিচ্ছে। এই নিয়ে আজ বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাইরের দেশে ব্র্যান্ডিং করার জন্য আমরা বেটার বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ করছি। প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ করবে বিবিএফ। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরবে তারা। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবকাঠামোগত যে অগ্রগতি হয়েছে, তা-ও তুলে ধরবে।’

বিডা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে গড়ে ৩০০ কোটি ডলার করে এফডিআই আসছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে ১৯০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। সবশেষ প্রতিবেদনে এই অবস্থান ১৬৮তম। এমন বাস্তবতায় বিদেশে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত করতে বিবিএফকে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার।
জানতে চাইলে বিবিএফের চেয়ারম্যান মাসুদ এ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বৈশ্বিক একটা নেটওয়ার্ক আছে। আমরা বিদেশি দূতাবাসগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) সেবাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হবে।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নেই বলে যে অভিযোগ রয়েছে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ এ খান বলেন, ‘এটা ঠিক যে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। বিদ্যমান যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে তা উতরাতে চাই।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here