‘বিএসইসি করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর’

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর কমিশনার ড. মোঃ মিজানুর রহমান বলেছেন, বিএসইসি করপোরেট গভর্ন্যান্স কোড বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এছাড়া নিকট ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন-পরিবর্ধনের মাধ্যমে এটিকে আরও সময়োপযোগী করবে বিএসইসি।

রবিবার, ১১ জুলাই ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি) আয়োজিত এক সিপিডি প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স প্র্যাকটিস শিরোনামের এই প্রোগ্রামে সভাপতিত্ব করেন আইসিএসবির প্রেসিডেন্ট মোজাফফর আহমেদ এফসিএস।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস। এতে প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার এম সাইফুর রহমান মজুমদার এফসিএ, এফসিএমএ এবং গ্রামীণফোন লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত প্রধান কর্পোরেট বিষয়ক কর্মকর্তা (সিসিএও) হোসেন সাদাত এফসিএস।

মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ সানাউল্লাহ এফসিএস দেশে কর্পোরেট গভারনেন্স প্র্যাকটিসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএসইসি বাংলাদেশে কর্পোরেট প্রশাসনের দেখাশোনা করার জন্য একা দায়িত্বশীল নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস (আরজেএসসি), ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এন্ড রেগুলেটরি অথরিটিকেও (আইডিআরএ)  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি তালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি তালিকা-বহির্ভূত কোম্পানি, বেসরকারী সংস্থা, এনজিও এবং এসএমইগুলিতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধে নিম্নলিখিতগুলির সুপারিশসমূহ তুলে ধরা হয়-

• কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কার্যকরের ক্ষেত্র বাড়ানো দরকার। এটি কেবল তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলিতে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়;

• তালিকাভুক্ত সরকারী সংস্থা/বেসরকারী সংস্থাগুলি এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলি এমনকি চ্যারিটেবল/এসএমইও কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের আওতায় আসতে হবে;

• স্বতন্ত্র পরিচালক নির্বাচনের মানদণ্ড অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে, বোর্ডের নিয়োগের প্রক্রিয়াও ভাল হতে হবে;

• দায়িত্ব এবং ঝুঁকি গ্রহণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বতন্ত্র পরিচালকদের পারিশ্রমিক যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত;

আলোচনায় অংশ নিয়ে এম সাইফুর রহমান মজুমদার এফসিএ, এফসিএমএ কর্পোরেট সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন যে আইসিএসবি দেশে কর্পোরেট গভর্নেন্স কালচারের পাশাপাশি বিশেষত কর্পোরেট গভর্নেন্স কোডের প্রচারের জন্য নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে পারে।

হোসেন সাদাত এফসিএস আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, দেশে গভর্ন্যান্সের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতি করতে কিছু টুলস ও প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। বিশেষত, কর্পোরেট সংস্থাগুলোর জন্য, বোর্ড গঠনে কিছু পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের শিক্ষা প্রদান সামগ্রিক কর্পোরেট প্রশাসনের সংস্কৃতি উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, কোম্পানিগুলোতে সুশাসন বাড়ানোর ক্ষেত্রে করপোরেট গভর্ন্যান্স অডিট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চার্টার্ড সেক্রেটারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিটের মান পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে বিএসইসি কাজ করছে।

তিনি বলেন, আগামীদিনের বাংলাদেশ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, স্বচ্ছ বাংলাদেশ, গতিশীল বাংলাদেশ এবং জবাবদিহিতার বাংলাদেশ হবে যেখানে বিনিয়োগকারী, আমানতকারীগন সুরক্ষিত থাকবে। এই লক্ষ্যটিকে বাস্তবে আনতে আমাদের আইসিএসবি সহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় কর্পোরেট গভারনেন্স রেগুলেশন কাঠামোয় পরিশীলিত করা দরকার।

সভাপতির বক্তব্যে মোজাফফর আহমেদ এফসিএমএ, এফসিএস বলেন, তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভূত কোম্পানির ক্ষেত্রে গভর্ন্যান্সের ভারসাম্য রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, একটি কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলন করতে চাইলে গভর্ন্যান্সের অনেক শর্ত পরিপালন করতে হয়। কিন্তু একই কোম্পানি যদি ব্যাংক থেকে (ঋণ নিয়ে) অর্থ সংগ্রহ করে তাহলে এসব শর্ত পরিপালন করতে হয় না। তাই ব্যাংকের ক্ষেত্রেও গভর্ন্যান্সের ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here