বাংলাদেশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা পতাকায় সয়লাব, সংঘর্ষে আহত ২

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ফুটবল-প্রেমীরা  ভাসছে  ব্রাজিল আর্জেন্টিনা জ্বরে। তবে ব্যাপারটা এখন আর শুধু প্রশ্ন কিংবা সমর্থনেই সীমাবদ্ধ নেই। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেও জড়াচ্ছেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। ব্যাপারটা বিশ্ব মিডিয়ার নজরেও এসেছে। বাংলাদেশে অনেক সময়ই বিশ্বকাপ-সমর্থন নিয়ে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ  ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার সঙ্গে কোনো রকম যোগসূত্র না থাকলেও বিশ্বকাপ এলেই এ দুটি দেশের প্রতি অন্ধ সমর্থনে এই দেশের মানুষ উন্মত্ত

গত বিশ্বকাপ চলাকালীন লালমনিরহাটে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক হোটেলশ্রমিক মারা যান। এবার অবশ্য বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপেক্ষা সহ্য হয়নি। গত সপ্তাহেই নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় চাকু-চাপাতি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। এই সংঘর্ষে মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এক বাবা ও ছেলে।

এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপের মৌসুম এলেই পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়, অমুক দলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অমুকের মৃত্যু। এবার যেমন রাস্তার পাশের খুঁটিতে ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১২ বছর বয়সী এক প্রাণ অকালে ঝরে পড়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘লাতিন আমেরিকান জায়ান্টদের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র নেই, বিশ্বকাপে তাঁদের জাতীয় দলও অনুপস্থিত—দলটা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১১টি দলের মধ্যে ১৯৪তম—কিন্তু ঠিকই বিশ্বকাপজ্বরে কাঁপছে গোটা বাংলাদেশ।’ পছন্দের দলের পতাকা টাঙানোর প্রতি এই দেশের মানুষের অলঙ্ঘনীয় মোহ নিয়েও সংবাদ সংস্থাটি লিখেছে, ‘১৬ কোটি মানুষের এই দেশের শহরগুলো ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায় সয়লাব।’

আসলে তো শুধু শহর নয়, গ্রামেও চলছে পতাকা টানানোর উৎসব। গঠন করা হচ্ছে অমুক কিংবা তমুক দল সমর্থক গোষ্ঠী।  শহরের ব্যস্ততম রাস্তা দখল করে মোটর শোভাযাত্রা কিংবা ভোজের আয়োজনও বেশ পুরোনো হয়ে গেছে। তবে বিশ্ব মিডিয়ার কাছে তা বোধ হয় নতুন বিষয়—এএফপি যেমন জানিয়েছে, মাদারগঞ্জে হাজারো মানুষ প্রিয় দলের পতাকা নিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করেছে।

বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের উন্মাদনা প্রসঙ্গে এএফপি লিখেছে, ‘বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কখনো খেলার সুযোগ না পেলেও প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ঘিরে এ দেশের মানুষ উন্মত্ত হয়ে পড়ে।

আশি-নব্বইয়ের দশকে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে ছিলেন পেলে। ব্রাজিলের ‘কালো মানিক’ তখন থেকেই এ দেশে পরিচিত নাম। এতে ব্রাজিলের প্রতি সমর্থনও বেড়ে যায়। আর আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় কেড়েছে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে। সেটা ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে ভুলে। ঠিক তখন থেকেই এ দেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু—এএফপিকে এমন তথ্যই দিয়েছেন এ দেশের একজন অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংবাদকর্মী।

শুধু পেলে-ম্যারাডোনা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, এরপর রোনালদো-বাতিস্তুতা কিংবা রোনালদো-ওর্তেগা আর এখন চলছে মেসি-নেইমারকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু এদের অনেকেই জানেন না ‘ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা ঠিক কোথায় অবস্থিত’—বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নেহাল করিম। যদিও এ দেশের লেখকের প্রশ্ন, ‘একজন আর্জেন্টিনা সমর্থক যদি বাসার ছাদে পতাকা ওড়ানোর মধ্যে সুখ খুঁজে পায়, তাহলে এই সুখে বাধা দেওয়ার আপনি কে?’ না, এই সুখের আস্বাদনে হয়তো কারও তেমন আপত্তি নেই। কিন্তু সমর্থনের নামে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কারওরই কাম্য নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here