বাংলাদেশেও উৎপাদন হবে রেমডিসিভির

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন পাওয়া রেমডিসিভির এখন থেকে বাংলাদেশেও উৎপাদন হবে। দেশের ৬টি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে-স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

আলোচিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে তিনটি কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এগুলো হচ্ছে-হচ্ছে-স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।

রবিবার, ৩ মে কোম্পানিগুলোকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলো ওষুধ উৎপাদনের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। তবে নিয়ম অনুসারে ওষুধ উৎপাদনের পর বাজারজাতের আগে আবার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে।

উল্লেখ, রেমডিসিভির হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি জিলেড সায়েন্স এর উদ্ভাবিত একটি ওষুধ। এটি মূলত ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে করোনাভাইরাসের চিকিৎসাতেও কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যদিও এর বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।

এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকর কোনো ওষুধ আবিস্কার না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (Food and Drug Administration-FDA) জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যাপ্ত সমীক্ষা ছাড়াই রেমডিসিভির ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

বলা হচ্ছে, রেমডিসিভিরের প্রধান কাজ হলো মানব কোষে ঢোকার পর ভাইরাস যে বংশবৃদ্ধি করে তা বন্ধ করে দেওয়া ও বংশবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেওয়া। করোনাভাইরাস মানুষের ফুসফুসের কোষে ঢোকার পর কোষের বংশবৃদ্ধির উপাদানগুলো অকার্যকর করে নিজে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। একটা ভাইরাস মুহূর্তেই লাখো ভাইরাসের জন্ম দেয়। এক সময় এই ছোট ছোট ভাইরাস কোষকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে বের হয় এবং পাশের নতুন একটি কোষকে আক্রমণ করে, তারপর আবার বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এভাবেই করোনাভাইরাস ফুসফুসকে ধ্বংস করে মাত্র কয়েকদিনে। আর তাই রোগী শ্বাস নিতে পারে না। এমন অবস্থায় অনেক রোগীর মৃত্যু হয়।

রেমডিসিভিরের উৎপাদক জিলেড সায়েন্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ২২ দেশের ১০৬৩ জন গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীর উপর সমীক্ষাটি চালানো হয়েছিল। তাতে দেখা গেছে, ৩১ শতাংশ রোগী গড় সময়ের চেয়ে আগে করোনা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। সাধারণত এই ধরনের গুরুতর রোগীদের সুস্থ হতে ১৫ দিন সময় লাগে। যাদের উপর রেমডিসিভির প্রয়োগ করা হয়েছে, তারা ১১ দিনেই সুস্থ হয়েছেন।

মৃত্যু কমাতেও নাকি রেমডিসিভির বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। সমীক্ষা দেখা গেছে, যাদের উপর রেমডিসিভির প্রয়োগ করা হয়নি তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১১ শতাংশ। অন্যদিকে যাদের উপর রেমডিসিভির প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের মৃত্যু হার ৮ শতাংশ।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এ্যালার্জি এ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (সিডিসি)এর পরিচালক ডা.অ্যান্থনি ফৌসি নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, করোনা চিকিৎসায় রেমডিসিভিরে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এটি কোষের ভেতর ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকিয়ে দেয়। এর পর পরই এফডিএ ওষুধটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

তবে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন এক সাম্প্রতিক জরিপের বরাতে বলেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মারাত্মক লক্ষণযুক্ত ৫৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে রেমডেসিভির শতকরা ৭০ ভাগ কার্যকর। কিন্তু এক-চতুর্থাংশের ক্ষেত্রে কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

অন্যদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যানসেট এর আগে জানিয়েছিল, চীনে রেমডিসিভির ব্যবহার করে তেমন ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here