বর্তমানে ফেসবুক পেজ ‘পিঠাশপ’- পিঠা ঢাকার মধ্যে বেস্ট’

আয়েশা রহমান শাম্মী। সাতবোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মেজো সন্তান তিনি। বিএ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবার বাড়ি-কিশোরগঞ্জ। নানা বাড়ি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে হওয়ায় সেখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার।

১৯৯৪ সালে জীবনের বড় একটা সিদ্ধান্ত নেন আয়েশা। বয়স তখন ১৭ এর কাছাকাছি তার। পরিচয়ের ৬ মাসের মাথায় বিয়ে করে ফেলেন কোর্টে। তারপর শুরু হয় তার জীবন-সংসারের যুদ্ধ। যৌথ পরিবার, সংসার ও শশুর-শাশুড়িকে সামলিয়ে নিজের পড়াশোনাটাও চালিয়ে যেতে হতো তাকে। সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিল। কিন্তু মনের ভেতরে অদম্য ইচ্ছে তাড়া দিত। ইচ্ছেটা কী ছিল বোঝে উঠতে পারেনি আয়েশা। দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের মা তিনি।

বর্তমানে ফেসবুক পেজ ‘পিঠাশপ’-এর মাধ্যমে নিজের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন আয়েশা। তার ব্যবসার প্রধান খাবার হলো বিভিন্ন ধরনের পিঠা। পাটিসাপটা পিঠাই তার সিগনেচার পণ্য। অন্যান্য পিঠার মধ্যে রয়েছে মুগ পাক্কন, তেলে ভাজা পুলি, ভাপা পুলি, এলেবেলে পিঠা, নকশি পিঠা, বিবিখানা, তেলের পিঠা, ভাপা পিঠা, দুধ চিতই, দুধ পুলি, খিরসা পুলি, ছরা পিঠা (সেমাই পিঠা)। এসবের মধ্যে নতুন আইটেম হলো খিরসা রোল ও ঢাকাইয়া আচার। আরও রয়েছে কুনাফা (খাবার), অরিও কেক, প্লেন কেক ও ফ্রুট ডেজার্ট।

আর ঝাল আইটেমের মধ্যে আছে-সিংগারা, চিকেন কাটালেট, চিকেন ভেজিটেবল সমুচা রোল, চিকেন চীজ ভেজিটেবল সমুচা, উনথন, চিকেন ভেজিটেবল রোল। তাছাড়াও আছে টমেটো সস ও কাচামরিচের সস।

ব্যবসার শুরুটা ছিল তার মেয়ের স্কুল থেকে। ২০১৬ ও ২০১৭ সাল, এই দুই বছর মেয়ের স্কুলের পিঠা মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আয়েশার উদ্যোক্তা জীবন শুরু হয়েছিল।

নিজের উদ্যোগ নিয়ে বলতে গিয়ে আয়েশা বলেন, ‘‘২০১৮ সালে আমার জীবনসঙ্গী ফেসবুকে আমাকে পেজ খুলে দেয়। টুকটাক অর্ডার নিয়ে চলছে আস্তে-ধীরে আমার পেজ। ২০১৯-এর অক্টোবরে আমার স্বামী ফেসবুক গ্রুপ উইতে (উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স) যুক্ত হন। তারই সিদ্ধান্তে উইর অফলাইন আড্ডায় আমরা দুই দুইবার পাটিসাপটা পিঠা উপহার দেই সবাইকে খাওয়ার জন্য।

তারপর থেকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পিঠাশপ জয় করে নিলো উইবাসীর মন। উই’র উপদেষ্টা রাজিব আহমেদ ভাইয়া আমার পিঠা খেয়ে বলেছিলেন ‘ভাবির হাতের পিঠা ঢাকার মধ্যে বেস্ট’। ভাইয়ার এই একটি কথায় আমি খুঁজে পেয়েছি আমার নিজেকে আর আমার হারানো আত্মবিশ্বাসকে।

সত্যি বলতে, উদ্যোক্তা কি সেটাই জেনেছি উইতে এসে। যেখানে পিঠাশপের পুনর্জন্ম হয় রাজিব আহমেদ ভাইয়ের হাত ধরে। যিনি বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন পিঠা অনলাইনে বিক্রি করে লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। একজন সাধারণ নারী থেকে হয়ে উঠেছি উদ্যোক্তা। উই দিয়েছে আত্মবিশ্বাস। নাসিমা আক্তার নিশা আপুর কাছে আমি চিরদিনই কৃতজ্ঞ থাকবো। তিনি এই প্ল্যাটফর্মটি নারীদের কথা চিন্তা করে শুরু করেছিলেন ও রাত/দিন আমাদের নিয়েই ভাবেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যবসার, শুরুটা অনলাইনেই। শুরুতে তেমন কোনো বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়নি। তবে অনেকেই ছোট করে দেখেছেন। আবার পিঠাওয়ালিও নাম দিয়েছেন। তবে আমি পিঠাওয়ালি হয়ে খুশি। কারণ, আমার কারণে অনেক ব্যস্ত, কর্মজীবী মায়েরা তাদের সন্তানদের নির্ভেজাল পিঠা খাওয়াতে পাড়ছেন। আমার সফলতা মানেই আমার কাস্টমারের তৃপ্তি। আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমার স্বামীর। সে সবসময় সাহস দিয়েছে ও সাপোর্ট করছে।’

শীত মানেই পিঠা। কিন্তু আয়েশার হাতে বানানো পিঠার চল রয়েছে সারাবছর। জানুয়ারি, ২০১৯-এ পিঠাশপের যাত্রা শুরু হয়। শীতের সময় প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার অর্ডার থাকে তার পেজে। এ পর্যন্ত উইতেই বিক্রি হয়েছে তিন লাখ টাকার অধিক।

ভবিষ্যতে পিঠাশপকে একটি স্টার্টআপ কোম্পানিতে রূপান্তরিত করতে চান আয়েশা। যেখানে অনেক নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। ‘পিঠাশপ’ বাংলাদেশের একটা ব্র্যান্ড হিসেবে দেশ ও দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠিত করাই তার লক্ষ্য। সঙ্গে ক্লাউড কিচেনের কথাও ভাবছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here