ফ্যান্ডামেন্টাল শক্তিতে কনফিডেন্স সিমেন্টে দুই বছরে ১৭৫ শতাংশ মুনাফা

স্টাফ রিপোর্টার: ফ্যান্ডামেন্টাল শক্তিতে কনফিডেন্স সিমেন্টে প্রায় দুই বছরে ১৭৫ শতাংশ মুনাফা দিয়েছে। কোম্পানিটি ব্যাপক সম্প্রসারণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ২০১৭ সাল থেকে। দেশের উন্নায়নের চাকা সচল রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাত পাওয়ার সেক্টর ও সিমেন্ট সেক্টর বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে কোম্পানিটি। এ দুটি খাতের বাহিরে ইন্জিনিয়ারিং সেক্টরে (কনফিডেন্স ইলেক্ট্রিক লিমিটেড) বিনিয়োগ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট।

সিমেন্ট খাতের কোম্পানি হয়েও কোম্পানিটির বিনিয়োগ অাছে দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ তিন সেক্টরে। ফ্যান্ডামেন্টাল শক্তিতে দর বাড়লেও, ফ্যান্ডামেন্টাল শেয়ারও অভারভ্যালুড হয়ে যেতে পারে দর বাড়তে বাড়তে। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদেরকে বিবেচনায় রাখা উচিৎ। আবার ফ্যান্ডামেন্টাল বিষয়টি লোহা বা পাথরের মতো অক্ষয় কোন বিষয় নয়। ফ্যান্ডামেন্টাল শেয়ারও সময়ের সাথে সাথে দুর্বল কোম্পানি হতে পারে। কোম্পানির বর্তমান ও ভবিষৎ সম্পর্কে সর্বদা দৃষ্টি রেখে পুজিঁ বিনিয়োগ করতে হবে।

প্রথম ঘোষণা: মে ১৮,২০১৭ তারিখে কোম্পানিটি ঘোষণা দেয় তারা, রংপুর ও বগুড়ায় দুটি ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরুর জন্য বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) অনুমতি পেয়েছে। এই প্রকল্প কনফিডেন্স সিমেন্টের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগ করবে। যেখানে কনসোর্টিয়ামের ৫১ শতাংশ শেয়ার কনফিডেন্স সিমেন্টের হাতে। বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ার গ্রুপের আরেক প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স স্টিল লিমিটেডের মালিকানায়।

ডিএসই সূত্রে পাওয়া তথ্য।

এ প্রসঙ্গ বিপিডিবির সঙ্গে কনসোর্টিয়ামটির ১৫ বছরের জন্য বিদ্যুত্ ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার, ১৮ মাসের মধ্যে তাদের উৎপাদনে আসতে হবে। কোম্পানিটি আরো জানায়,  ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন উভয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে হেভি ফুয়েল অয়েল (এইচএফও) ব্যবহূত হবে। রংপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে বিপিডিবি ৮ টাকা ২০ পয়সা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুত্ কিনবে। বগুড়ার প্লান্টের বিদ্যুত্ বিক্রি হবে ৮ টাকা ২৪ পয়সা দরে।

দ্বিতীয় ঘোষণা: জুন ৫, ২০১৭ কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড দ্বিতীয় বার নতুন করে ব্যবসা বৃদ্ধি ঘোষণা দেয়। সিমেন্ট খাতের কোম্পানিটি ব্যাটারি তৈরি ও বিপণন কাজে কনফিডেন্স ইলেক্ট্রিক লিমিটেড (কনফিডেন্স ব্যাটারিজ পরে কনফিডেন্স ইলেক্ট্রিক লিমিটেড নাম ধারণ করে )তাদের গ্রুপের অন্য একটি কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ারে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ডিএসই সূত্রে পাওয়া তথ্য।

ডিএসই জানায়, কনফিডেন্স ইলেক্ট্রিক লিমিটেড নামে গ্রুপের একটি প্রতিষ্টান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ‘ডিমিট্রিস’ নামে ব্যাটারি তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করে। কনফিডেন্স ব্যাটারিস লিমিটেড এর ৪৯ শতাংশ শেয়ার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে অর্থাৎ ২৪ হাজার ৫০০টি শেয়ার ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করবে।

তৃতীয় ঘোষণা: ২৮ নভেম্বর, ২০১৭ তারিখে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালানা পর্ষদ কোম্পানিটির  নতুন ‘তিন নম্বর ইউনিট’ চালুর ঘোষণা দেন। যা ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখ থেকে উৎপাদনে যায়। ‘তিন নম্বর ইউনিট’ চালুতে  কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুন হয়ে যায়। নতুন  ইউনিটির উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ২৫০০ মেট্রিক টন। অাগে উৎপাদন ক্ষমতা ছিল প্রতিদিন ২০০০ মেট্রিক টন। ফলে উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় প্রতিদিন ৪৫০০ মেট্রিক টন।

চতুর্থ  ঘোষণা : ৩১ জানুয়ারী , ২০১৮ কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের পরিচালানা পর্ষদ নতুন সিমেন্ট কোম্পানি  ‘কনফিডেন্স সিমেন্ট ঢাকা লিমিটেড’ এবং ‘কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড’ নামে নতুন একটি পাওয়ার কোম্পানি গঠন করে বগুড়ায় ২২৬ মেগাওয়াট, রংপুরে ১১৩ মেগাওয়াট এবং চট্টগ্রামে ৫৪.৩৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করা হবে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 ডিএসই জানায়, নতুন সিমেন্ট নতুন কোম্পানিটিতে প্রতিদিন ৫ হাজার মেট্রিক টন সিমেন্ট উৎপাদন করবে। এর ৫০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে কনফিডেন্স সিমেন্ট। আর নতুন পাওয়ার কোম্পানিটিতে তিনটি পাওয়ার প্লান্ট থেকে প্রতিদিন সব মিলিয়ে ৩৯৩.৩৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এই কোম্পানিটির ৪১ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড।

অার্থিক অবস্থা: ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ক্রেডিট রেটিং ইনফর্মেশন এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (সিআরাইএসএল) ক্রেডিট রেটিং অনুযায়ী কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড দীর্ঘমেয়াদে ‘এ+’ এবং স্বল্প মেয়াদে ‘এসটি–৩’ পেয়েছে। তার মানে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলেও কোম্পানির ‍ঋণ মানের কোন পরির্বতন হয়নি। কোম্পানি চরম তারল্য সংকটে পড়েনি।

শেয়ার প্রাইজ: ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানিটির শেয়ার প্রাইজের দাম ছিল ৯০ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার প্রাইজের দাম ২১০ টাকার কাছাকাছি।

চ্যার্টটি দেখতে লিংকটিতে ক্লিক করুন।

দেশের প্রয়োজনীয় তিন সেক্টরে বিনিয়োগ করায় বিপুল সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে কোম্পানিটির। ইতোমধ্যে শেয়ার প্রাইজে ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে।

১৯৯৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্টের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৫৩ কোটি ৯৯ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভ ২৬৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৯২ হাজার ২২৪টি; যার মধ্যে ২৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

আরোও পড়ুন:  

‘ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের’ কলাকৌশল ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থ

১০ কোম্পানির শেয়ার লক ফ্রি সময়

ডিভিডেন্ড প্রতারণার ধরণ ও কৌশল, বিনিয়োগকারীর স্বার্থ

ডিভিডেন্ড কি? কখন কিনলে পাওয়া যায়?

 

imranhoshen71@gmail.com

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here