প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা প্রবৃদ্ধি ৯%

স্টাফ রিপোর্টার: চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ,১৮) ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের করপরবর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়েছে।

প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নিজেদের প্রধান কার্যালয়ে পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা (অনলাইনে), বিশ্লেষক ও সংবাদকর্মীদের সামনে প্রথম প্রান্তিকের ব্যবসার খুঁটিনাটি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সেলিম আর.এফ. হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের প্রথম প্রান্তিক ছিল আমাদের জন্য তিন দশকের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে দেখা সবচেয়ে কঠিন ও জটিল সময়। বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, অনেক চাহিদা সত্ত্বেও আমাদের নতুন করে ঋণ বিতরণে রক্ষণশীল হতে হয়। এ সময়েও ব্র্যাক ব্যাংক তাদের ব্যবসা ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধি দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকের সম্মিলিত হিসাবে আমানত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে ২১ শতাংশ। বিপরীতে ঋণ বেড়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। এডি রেশিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদিত সীমার নিচে অবস্থান করছে। প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল পর্যালোচনা অংশে ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এ.কে. জোয়াদ্দার ও হেড অব ট্রেজারি শাহীন ইকবাল জানান, সাবসিডিয়ারিসহ হিসাব করলে প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংকের নিট সুদ-আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে।

ঋণের পেছনে আগের বছর প্রথম প্রান্তিকে ২৭ কোটি টাকা সম্মিলিত ব্যয় হলেও চলতি প্রথম প্রান্তিকে যোগ-বিয়োগ করে শেষ পর্যন্ত এ খাতে উল্টো ২ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এতে ব্যাংকের সম্মিলিত কর-পূর্ব মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ২২২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। কর বাবদ ব্যয় ৮ শতাংশ বাড়লেও শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির নিট মুনাফা ৯ শতাংশ বেড়ে ১৩৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যেখানে এককভাবে ব্যাংক কোম্পানিটির মুনাফা ১২ শতাংশ বেড়ে ১২৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা বিকাশ প্রথম প্রান্তিকে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা করপরবর্তী মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।  এ সময় বিকাশে আলীবাবা গ্রুপের বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়েও বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের জবাব দেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা।

পুঁজিবাজারে কিছুটা মন্দাভাব থাকায় প্রথম প্রান্তিকে ব্রোকারেজ সাবসিডিয়ারি ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের করপরবর্তী মুনাফা ৮ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে মার্চেন্ট ব্যাংকিং সাবসিডিয়ারি ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের নিট লোকসান এক বছরের ব্যবধানে ১৬ কোটি ১০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।

মানি এক্সচেঞ্জ সাবসিডিয়ারি ব্র্যাক স্বজন আগের বছর প্রথম প্রান্তিকে মাত্র ২০ লাখ টাকা মুনাফা করলেও এ বছরের প্রথম তিন মাসে তা ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

আলোচ্য সময়ে এককভাবে ব্যাংকটির রিটার্ন অন ইক্যুইটির (আরওই) হার ১৮.৭০ শতাংশে, রিটার্ন অন অ্যাসেট ১.৭১ শতাংশে, ক্রেডিট ইনফরমেশন রিপোর্ট (সিআইআর) ৫৭.২৪ শতাংশে এবং ক্যাপিটাল অ্যাডিকুয়েসি রেশিও (সিএআর) ১২.৯৩ শতাংশে অবস্থান করছে।

প্রথম প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৮ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৩৪ পয়সা। এককভাবে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৪৫ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে কোম্পানির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা। ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্য (এনএভি) হয়েছে ৩১ টাকা ৯০ পয়সা।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিম আর.এফ. হোসেন বলেন, প্রফিটেবিলিটিতে ব্র্যাক ব্যাংক এরই মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একটি অবস্থানে চলে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে সব দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের এক নম্বর ব্যাংক হওয়াই ব্র্যাক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। এজন্য আর্থিক প্রতিটি নির্দেশকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সর্বাধুনিক ব্যাংকিং প্রডাক্ট চালুর চেষ্টা ধরে রাখবে ব্র্যাক ব্যাংক।

চলতি বছর সাবসিডিয়ারি বিকাশের পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংক নিজেও বিভিন্ন নতুন পণ্য ও সেবা নিয়ে সারা দেশের গ্রাহকদের কাছে যাবে। এজেন্ট ব্যাংকিং সারা দেশের গ্রামাঞ্চলে ব্র্যাক ব্যাংককে আরো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here