প্রগতির গাড়ি ব্যবসা হুমকিতে

শিপিং চার্জ বাড়ানোয় ডিসেম্বরে নিজেদের সংযোজিত গাড়ির দাম বাড়ানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (পিআইএল)। নতুন দাম নিয়ে আলোচনার আগেই ৩১ জানুয়ারি চিঠি দিয়ে শিপিং চার্জ আরেক দফা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে মিত্সুবিশির মোটরস করপোরেশনের (এমএমসি) বাংলাদেশ এজেন্ট ককুসাই লিংকস (কেএলসি)। মাসের ব্যবধানে দুই দফায় সমুদ্রপথে পরিবহন খরচ ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার প্রস্তাবে গাড়ির বিক্রয়মূল্য নির্ধারণেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। অস্বাভাবিক পরিবহন খরচে গাড়ি এনে বাড়তি দামে সেই গাড়ি বিক্রয় হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কিত প্রগতি কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থা চলতে থাকলে প্রগতির ভবিষ্যৎ ব্যবসা হুমকিতে পড়বে বলে মনে করছেন স্বয়ং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সূত্র জানায়, বিশ্বখ্যাত মিত্সুবিশি মোটরস করপোরেশনের (এমএমসি) জাপান ও থাইল্যান্ডের কারখানা থেকে পাজেরো স্পোর্ট ও ডাবল কেবিন পিকআপ সমুদ্রপথে আনতে শিপিং খরচ পড়ত প্রতিটি গাড়িতে দুই হাজার ডলার, কিন্তু বৈশ্বিক করোনা অতিমারির কারণে কয়েক মাস ধরে বিশ্বব্যাপী খালি কনটেইনার সংকটের কারণে শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় মিত্সুবিশির বাংলাদেশ এজেন্ট ককুসাই লিংকসের (কেএলসি) অনুরোধে এক মাস আগে গত ডিসেম্বর গাড়িপ্রতি আরো দেড় হাজার ডলার বাড়িয়ে মোট সাড়ে তিন হাজার ডলার করে পিআইএল কর্তৃপক্ষ, কিন্তু এক মাস যাওয়ার আগে গত ৩১ জানুয়ারি শিপিং চার্জ আরো দ্বিগুণ, অর্থাৎ সাত হাজার ডলার করার জন্য প্রগতি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে কেএলসি। একই সঙ্গে চিঠিতে শিপিং চার্জ আরো বাড়লে আগামী দিনে গাড়ি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে যুগ্ম সচিব থেকে ওপরের পদের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ির বাজেট ৯৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। প্রগতি কিউএক্স মডেলের পাজেরো স্পোর্ট জিপ গাড়ির বিক্রয়মূল্যও সেই বাজেট অনুযায়ী নির্ধারণ করে, কিন্তু ডলারের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সমুদ্রপথে পরিবহন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গত ডিসেম্বর মাসে পাজেরো স্পোর্ট জিপের বিক্রয়মূল্য নতুন করে ৯৯ লাখ টাকা নির্ধারণ করে। সেই অনুযায়ী, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার বাজেট সমন্বয় করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রগতি। এ জন্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) মাধ্যমে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু এই চিঠির বিপরীতে কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগেই আরো এক দফা দাম বাড়ানোর কথা ভাবতে হচ্ছে প্রগতিকে। কারণ হিসেবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আক্তার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, মিত্সুবিশির এজেন্ট কেএলসির দাবির গাড়িপ্রতি শিপিং খরচ এক দফা বাড়ানোর পর সোমবার আরো সাড়ে তিন হাজার ডলার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পরিবহন খরচ না বাড়ালে তারা গাড়ি সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। এই অবস্থায় গাড়ির দাম বাড়ানোর বিকল্প নেই। নতুন পরিবহন খরচে পাজেরো স্পোর্ট জিপের প্রতিটির দাম এক কোটি ছয় লাখ টাকায় উন্নীত হবে বলে তিনি জানান।

প্রগতি সূত্র জানায়, বর্তমানে বিযুক্ত (সিকেডি) অবস্থায় আমদানি করা প্রতিটি ২৪৭৭ সিসির পাজেরো স্পোর্ট কিউএক্স মডেলের গাড়িতে সর্বসাকল্যে শুল্কহার ২১২.২ শতাংশ প্রদান করতে হয়। একই সিসির এল-২০০ মডেলের ডাবল কেবিন পিকআপের শুল্কহার ৫৮.৬ শতাংশ। প্রগতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘গাড়ির দাম না বাড়িয়ে বর্তমান দর রাখতে চাইলে শুল্কহার কমাতে হবে। অন্যথায় নতুন দরে গাড়ি বিক্রি করা সম্ভব হবে না। ’

বর্তমানে প্রগতির সীতাকুণ্ডের কারখানায় পাজেরো জিপ রয়েছে ১৫০টি। আর ডাবল কেবিন পিকআপ রয়েছে মাত্র ২১টি। তবে তিন হাজার ৫০০ ডলার পরিবহন খরচে পাজেরো ও ডাবল কেবিন পিকআপের ঋণপত্র (এলসি) খোলা আছে ১০০টি করে। আগামী মাসেই গাড়িগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। এই গাড়িগুলো দিয়ে কোনোমতে জুন মাস পর্যন্ত ব্যবসা করা গেলেও আগামী অর্থবছরের ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে শঙ্কিত প্রগতি। মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘ডাবল কেবিন পিকআপের প্রচুর চাহিদা রয়েছে, অথচ এই গাড়ি আছে মাত্র ২১টি। ২০০ করে মোট ৪০০ ইউনিট পাজেরো এবং পিকআপ এলসি খোলার প্রক্রিয়া ছিল। এখন নতুন শিপিং খরচের কারণে সেটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে গাড়ি আমদানি করা সম্ভব হবে না। ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here