দেশে ধুমপান নিষিদ্ধের অনুরোধ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

ডেস্ক রিপোর্ট : নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় দেশে সিগারেটসহ তামাক জাতীয় সব পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শিল্পমন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার, ১৯ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ তামাক জাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী সব কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন এবং তামাকপাতা কেনা-বেচা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে তামাক কোম্পানিগুলোকে দেওয়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করতেও বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসে দেশে তরুণদের মৃত্যুর পেছনে অনেকাংশে ধূমপানকে দায়ী মনে করা হচ্ছে। কারণ ধূমপানের করোনার ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি দ্বিগুণ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতেও সেটিই উঠে এসেছে।

সিগারেট নিষিদ্ধ সংক্রান্ত চিঠিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করার কথাও জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, তামাক পণ্য বলতে সব ধরনের সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, তামাক পাতা, তামাক ডাঁটা ইত্যাদিকে বোঝানো হয়ে থাকে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে কোভিড-১৯ সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার কথা বলছে। ধূমপানের কারণে শ্বাসতন্ত্রের নানাবিধ সংক্রমণ এবং কাশিজনিত রোগ তীব্র হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাধিক গবেষণা পর্যালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়াও গবেষণা দেখা গেছে, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ধূমপায়ীর মৃত্যুঝুঁকিও ১৪ গুণ বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাময়িকভাবে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়, সীসা বার, উন্মুক্ত স্থানে পানের পিক ফেলার মতো বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সরকার কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ক্রমবর্ধমান কোডিড-১৯ রোগ প্রতিরোধে, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের তামাক কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশেষ অনুমতিপত্র প্রদান করা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাস করতে প্রণীত সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এ সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে বাজার, গণজমায়েত সাময়িকভাবে বন্ধ, দেশের অভ্যন্তরে এক স্থান থেকে অনা স্থানে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার অজুহাতে এ আইন লঙ্ঘন করে চলেছে।

এ কারণে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ পড়ার প্রত্যয় এগিয়ে নিতে সব তামাক কোম্পানির উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণন ও তামাকপাতা ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে এ ব্যাপারে চিঠিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত স্বাস্ত্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রায়ই সবাইকে ধূমপান বর্জনের পরামর্শ দিয়ে আসা হচ্ছিল। কয়েকদিন আগে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী করোনায় সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। এছাড়া কয়েকটি ধূমপান বিরোধী সংগঠনও একাধিকবার সরকারের কাছে এই দাবি জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here