তুলার বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্রাজিলের প্রভাব বাড়ছে

ডেক্স রিপোর্ট: তুলার বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র,। দেশটি তুলার শীর্ষ রফতানিকারক। তবে বাণিজ্যযুদ্ধের জেরে শীর্ষ ভোক্তা চীন তুলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে তুলার বাজারে মার্কিন আধিপত্য। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তুলার বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে চায় আরেক শীর্ষ রফতানিকারক  ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। ফলে তুলার বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্রাজিল প্রভাব বাড়ছে।

গত বছর চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আগে তুলার অবাধ বাণিজ্যের (ফ্রি ট্রেড) ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের মাঝামাঝিতে চীন বেশির ভাগ মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করে। এরপর থেকে নিউইয়র্কে ভবিষ্যৎ চুক্তির বাজারে তুলা ১২ শতাংশ কম দামে লেনদেন হচ্ছে।

আগে থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশের সস্তা তুলার জন্য মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাজার ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় চীনের শুল্কারোপ পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে। মার্কিন তুলা উৎপাদকদের এই দুর্দশার মধ্যে ব্রাজিল চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের চেষ্টা করছে। এতে সফল হলে লাতিন আমেরিকান দেশটি অচিরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সরকারি তথ্যে জানা গেছে, ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চীনে ব্রাজিলের পণ্যের সরবরাহ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে একজন প্রতিযোগী তৈরি করে ফেলেছে। নিজেদের স্থান নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই ব্রাজিলকে চীনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

ব্রাজিল আবাদ-উৎপাদন সবই বাড়াচ্ছে। তারা নতুন পণ্য তৈরি করছে, বিনিয়োগ করছে, নতুন জিন কিনছে, নতুন যন্ত্রপাতি কিনছে। এর প্রভাব সহজে শেষ হয়ে যাবে না।

তবে চীনারা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বাজার পুরোপুরি ছেড়ে যায়নি। তারা তুলা কেনা বন্ধ করতে আগ্রহী নয়। তারা বলছে, আমরা এখনো মার্কিন তুলা কিনতে চাই।

বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে পলিয়েস্টার উৎপাদনের খরচ কমে আসছে। সুতার বাজারে পলিয়েস্টার তুলার বড় প্রতিযোগী। বাণিজ্যচুক্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তুলা সরবরাহ খুব কষ্টকর হবে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ ও বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here