ডিএসইকে বিভিন্ন শর্তারোপে যোগদানের আগেই বাদ পড়লেন আশিক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) পদে নিয়োগ পেলেও যোগদানের আগেই বাদ পড়লেন যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আশিক রহমান। তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পেশাদার হিসাববিদ ও রূপালি ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শওকত জাহান খানকে (এফসিএমএ)।

এর আগে গত ৭ জুলাই আশিকের নিয়োগে সম্মতি জানিয়ে ডিএসইকে চিঠি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

কিন্তু এই নিয়োগের পরে যোগদানের আগেই ৭-৮টি শর্ত দিয়ে বসেন আশিক রহমান। তিনি ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমানের কাছে যোগদানের আগে শর্তের বিষয়গুলো তিনি ধরেন।

ডিএসইর বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শর্তগুলোর মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) প্রায় সমান বেতন, সিআরও পদবি পরিবর্তন, ফোর হুইলার গাড়ির দাবি, এমডির কাছে রিপোর্ট করবে না ইত্যাদি। যা ডিএসইর পর্ষদ মেনে নিতে পারেনি।

তার শর্তের বিষয়গুলো নিয়ে গতকাল (১৮ জুলাই) ডিএসইর পর্ষদ সভায় আলোচনা হয়। এতে শেয়ারহোল্ডার পরিচালক রকিবুর রহমানসহ সবাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তার শর্ত না মেনে নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পর্ষদে আশিকের নিয়োগের বিষয়ে পরিচালকেরা বলেন, তার বেতনসহ কি সুবিধা দেওয়া হবে, তা বিএসইসিতে তার নাম সুপারিশের আগেই চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এখন নিয়োগ দেওয়ার পরে এসে নতুন করে শর্ত দেওয়াটা ঠিক হয়নি। ডিএসই কারও শর্তে নিয়োগ দিতে বাধ্য নয়। যে কারনে গতকালকের পর্ষদ সভায় তার নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একটি সূত্রে জানা গেছে, আশিক রহমান বর্তমানে চাকরীতে রয়েছেন। যিনি কিছুদিন আগেও বেকার ছিলেন। ওইসময় ডিএসইতে সিআরও পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য নানা তদবিরও করেছেন। কিন্তু এখন অন্যত্র চাকরী করার সুবাধে নানা শর্ত আরোপ করেছেন।

(শওকত জাহান খান)

আশিকের নিয়োগ বাদ করে দেওয়ায় ডিএসইর সিআরও পদে শওকত জাহানকে নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। এই দুই বিষয়ে সোমবার ডিএসইতে চিঠিও দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

তবে শওকত জাহানের নিয়োগ অবশ্য অনেকটা আগেই দিয়ে রেখেছিল কমিশন। আশিকের নিয়োগের সময়ই কমিশন বলে দিয়েছিল, আশিক যদি ৩০ দিনের মধ্যে যোগদান না করেন, তাহলে শওকত জাহান সিআরও পদে যোগদান করবেন।

নিয়োগ পাওয়ার পরে বিভিন্ন শর্ত দিলেও আশিকের যোগ্যতা নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। যে কারনে দীর্ঘ ২ মাসের বেশি তার নিয়োগের ফাইলটি ফেলে রেখেছিল কমিশন। যার প্রথম দফায় এমডি পদে যোগ্যতার অভাবের কারনে নিয়োগ দেয় না কমিশন।

গত ৪ মে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সভায় আশিককে সিআরও পদে নিয়োগ দেয়। এরপরে ৬ মে তার অনুমোদন চেয়ে কমিশনে চিঠি দেয়। এরপর থেকে ফাইলটি চাঁপা পড়েছিল। যাতে গত ৭ জুলাই অনুমোদন দেয় কমিশন।

এর আগে ডিএসইর পর্ষদ আশিক রহমানকে যোগ্য বিবেচনায় এমডি পদে নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তিনি যোগ্য নন বলে জানায় কমিশন।

যে কারনে কমিশন শেয়ারবাজারের স্বার্থে আশিক রহমানকে গতবার এমডি পদে নিয়োগ দেয়নি। বিএসইসি জানায়, ডিএসই চালানোর মতো পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই আশিক রহমানের। এছাড়া সে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারটি চালাতে অক্ষম বলে জানায়।

সূত্র : বিজনেস আওয়ার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here