জিতলেও ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই গেল

টিভি পর্দায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড় দেখে অনেকে চিনতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে রঙ্গ-রসিকতাও হয়েছে।

এক ম্যাচে ৬ জনের ওয়ানডে অভিষেক ঘটলে এই রসিকতার সঙ্গে একপেশে জয় আশা করেছিলেন সমর্থকেরা। ১২২ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ৬ উইকেটের জয়ে তার ছাপ দেখা গেল কতটুকু?

বোলিং নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। কিন্তু ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্নটা আরও বাড়ল। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আজ জিতেছে বাংলাদেশ।

১০ মাসের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেমে এই জয়টা অবশ্যই সন্তুষ্টির। কিন্তু এই জয়কে আতশ কাচে দেখলে ব্যাটিংয়ের খামতিটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

দেখেশুনে খেলে ৪৭ রানের জুটি গড়েছিলেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। লিটনের ব্যাটিং স্বাভাবিক ছিল না।

৩৭ বলে ১৪ রানে ফিরেছেন আকিল হোসেনের দারুণ এক ডেলিভারিতে। পুরোনো রোগের মতো এর দুই ওভার পরই মিড উইকেটে ক্যাচ অনুশীলন করিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১)। ভীষণ দৃষ্টিকটু ছিল তাঁর আউট।

এমন নয় যে প্রথম কিংবা দ্বিতীয় বলেই জড়তার জন্য ক্যাচটা উঠে গেছে। ৮ বল খেলা হয়ে গিয়েছিল শান্তর। নিজেদের চিরচেনা উইকেটে বল মন্থর গতিতে এলেও ততক্ষণে শান্তর টাইমিং ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা।

আসলে স্বল্প লক্ষ্য (১২৩) তাড়া করতে নেমে যে খামোখা নিজেদের বিপদ বাড়ানো যে ঠিক হবে না, সে কথাটা মনে রাখতে কষ্টই হয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।

ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদের বলে তামিমের (৪৪) স্টাম্পিং মেনে নিতেও কষ্ট হওয়ার কথা ভক্তদের। উইকেটে জমে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। ফিফটিটা তুলে নিতেই পারতেন।

ফাঁকির শিকার হয়েছেন মোহাম্মদের বাঁকে। সামনে খেলতে গিয়ে পেছনের পা উঠে গিয়েছিল, স্পিনে ব্যাটসম্যানদের এই প্রবণতা কিংবা ভুল, যা-ই বলুন না কেন, এসব নতুন কিছু নয়। একজন অভিজ্ঞ ওপেনারের তা ভুলে গেলে চলবে কীভাবে!

সাকিব আল হাসান ফিরেছেন চিরাচরিত ‘অভ্যাস’-এর বশবর্তী হয়ে। চল্লিশের বেশি বল খেলা হয়ে গিয়েছিল সাকিবের। কুয়াশাচ্ছন্ন কন্ডিশনে চোখ সয়ে আসার কথা।

ওদিকে ক্যারিবীয় স্পিনার আকিল হোসেন উইকেটে বাঁক পাচ্ছিলেন। ওদিকে স্কয়ার কাটের প্রতি সাকিবের দুর্বলতা চিরকালীন।

রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে অ্যাঙ্গেলে সাকিবকে বেশ ভোগাচ্ছিলেন আকিল। তাঁকে জোর করে কাট করতে গিয়ে বলের বাঁকের কাছে হেরে নিজের উইকেটটা দিয়েছেন সাকিব।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসা যাক। এই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের সব প্রস্তুতি সেরেছে বাংলাদেশ। এখানকার উইকেট তামিমদের কাছে হাতের তালুর মতো চেনা।

বল বাঁক নেয়, একটু ধীরে আসে, এসব বিষয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তো অনেক আগের শর্ত। আজ সেই শর্ত কতটুকু পূরণ হয়েছে। ১২২ রান তাড়া করতে নেমে ৩৩.৫ ওভার খেলেছে বাংলাদেশ। ওভারে গড় রানরেট ৩.৬৯।

বর্তমান ক্রিকেটের হালচাল বিচারে এই ব্যাটিংকে মোটেও স্বাভাবিক বলা যায় না। কুয়াশাচ্ছন্ন কন্ডিশন, দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামার জড়তা, এসব বিষয় হয়তো জেঁকে বসেছিল। তবু স্পিনে ব্যাটসম্যানদের পায়ের কাজ ঠিক স্বাভাবিক না-ও লাগতে পারে অনেকের কাছে।

একটা পরিসংখ্যান পেশ করা যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২২ রান তুলেছে ৩২.২ ওভারে। এর মধ্যে ১৩৩ বল ‘ডট’ খেলেছে সফরকারী দল। বাংলাদেশ এই রান তাড়া করে জিতেছে তাদের চেয়ে বেশি ওভার খেলে।

ডটসংখ্যাও বেশি ১৩৯—অথচ শেরেবাংলার বাইশ গজ বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘ঘর’, যেখানে ব্যাটিংটা স্বচ্ছন্দে করার কথা তামিমদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here