চামড়া কিনতে বরাদ্দের তুলনায় বিতরণ কম

করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসা খাতে চলছে মন্দাভাব। এর প্রভাব আরো বেশি পড়ছে ধুঁকতে থাকা চামড়া খাতে। বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় বেকায়দায় রয়েছে পুরো চামড়াশিল্প। ফলে ব্যবসায়ীরা চাহিদামতো ব্যাংকঋণ পাচ্ছেন না। বরাদ্দ থাকলেও ব্যাংকগুলো বিতরণ করে না। এতে নাখোশ অর্থ মন্ত্রণালয়। এবার বিতরণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে ব্যবসায়ীরা বরাদ্দ ও বিতরণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ বিবেচনায় ঋণ নবায়নের সুযোগ চাইছেন। গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ নিয়ে ভার্চুয়ালি এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, বৈঠকে করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে চামড়া খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। ফলে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের চামড়া খাতে। এতে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না। এতে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণ। ফলে অনেক ব্যাংকই চামড়া খাতে ঋণ বিতরণে কিছুটা অনীহা দেখাচ্ছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে বলা হয়, চামড়া খাতকে বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি ৯ ব্যাংক ৫৮৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে বরাদ্দ রেখেছে। বরাদ্দের এই টাকা গত বছরের তুলনায় ৬১ কোটি ৫০ লাখ টাকা কম। গত বছর এই খাতের জন্য ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। তবে বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি এক লাখ টাকা।

বৈঠকে বলা হয়, চলতি বছর সরকারি সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও কৃষি ব্যাংক ৫১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণে বরাদ্দ রেখেছে। গত বছর ব্যাংকগুলো ৫০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। চলতি বছর বেসরকারি ব্যাংকগুলো চামড়া খাতে ৭১ কোটি চার লাখ টাকা ঋণ বিতরণের জন্য বরাদ্দ রেখেছে, যা গত বছর ছিল ১৩৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক মিলিয়ে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণে বরাদ্দ রেখেছে রূপালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি এবার ব্যবসায়ীদের জন্য ২২৭ কোটি টাকার ঋণ বরাদ্দ রেখেছে। আর বেসরকারির মধ্যে ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এ ছাড়া সরকারি জনতা ব্যাংক ১৪০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আর বেসরকারি খাতের এনসিসি ব্যাংক ৫০ লাখ টাকা এবং দ্য সিটি ব্যাংক ২০ লাখ টাকা ব্যবসায়ীদের চামড়া কিনতে বরাদ্দ রেখেছে।

বৈঠকে গত বছর কোন ব্যাংক কত ঋণ বিতরণ করেছে তার একটি প্রতিবেদনও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত বছর অগ্রণী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। বিপরীতে ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। রূপালী ব্যাংক গত বছর চামড়া খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য ১৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিল। ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ১১ কোটি টাকা। গত বছর জনতা ব্যাংক ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে কোনো ঋণই বিতরণ করেনি। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংক গত বছর ৭১ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ২০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বেসিক ব্যাংক তিন কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও কোনো ঋণ বিতরণ করেনি। এবারও ব্যাংকটি চামড়া কিনতে কোনো অর্থই বরাদ্দ রাখেনি।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক গত বছর ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১২ কোটি ২১ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে। আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক গত বছর ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ঋণ দিয়েছে এক কোটি টাকা। এবার ব্যাংকটি বরাদ্দই রেখেছে এক কোটি ৯ লাখ টাকা। আর ঢাকা ব্যাংক ৫০ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখলে কোনো ঋণ বিতরণ করেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here