চলতি মাসের শেষে ঘোষণা হবে মুদ্রানীতি

স্টাফ রিপোর্টার: তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আগামী ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বিনিয়োগবান্ধব মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে পারেন বলে জানা গেছে। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ মাথায় রেখে নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হবে এবং এতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে মধ্যে রাখার লক্ষ্য থাকবে।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ওই অর্থবছরে অর্জিত হয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে শূণ্য দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের  লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে  ধারণা করা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরে দেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। মুদ্রানীতির মাধ্যমে ব্যাংকে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ থাকবে। ফলে ঋণের সুদের হার কমে আসবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগে যে মন্দা যাচ্ছে, তা কাটাতেই এবারের মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ করা হবে। তবে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে মধ্যে রাখার লক্ষ্য থাকবে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৮) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। যদিও ব্যাংকগুলোতে টাকার সংকট ও জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন নিম্নমুখী। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ডিসেম্বরের প্রবৃদ্ধি গত ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় ২০১৫ সালে এমন পরিস্থিতি ছিল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে খুব বেশি ভূমিকা থাকে না। তবে সরকারের কাছে বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি প্রত্যাশা বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর দুই বার মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে। একটি অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই মাসে এবং অন্যটি জানুয়ারি মাসে। সাধারণত মুদ্রার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে এই মুদ্রানীতি। মুদ্রানীতির অন্যতম কাজগুলো হলো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে করা, ঋণের প্রক্ষেপণের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ঋণের যোগান ধার্য করা এবং মুদ্রার প্রচলন নিয়ন্ত্রণ করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here