ঘোষণা না দিয়ে শেয়ার বিক্রিকারী উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার : নিয়ম অনুসারে ঘোষণা না দিয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানির যেসব উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এই ধরনের উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তালিকা বানাবে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেই তালিকা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠানো হবে।

বুধবার, ২৩ মে ডিএসইতে অনুষ্ঠিত স্টেকহোল্ডারদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে জানানো হয়, যারা ইতেমধ্যে না জানিয়ে এবং রাজস্ব ফাকি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করেছেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে এবং যারা এ কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যাখা ও আইনি করণীয় নিয়ে বিএসইসির কাছে আবেদন জানানো হবে। আর যারা রাজস্ব ফাকি দিয়েছেন, সেই রাজস্ব কিভাবে আদায় করা যায় সেই ব্যাপারেও বিএসইসির কাছে আবেদন করা হবে।

বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করে চলে যাওয়াতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করতে হলে অবশ্যই স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাতে হয় এবং কর পরিশোধ করতে হয়, কিন্তু বেশ কিছু সময় ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু  উদ্যোক্তা  স্টক এক্সচেঞ্জকে না জানিয়ে এবং সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে শেয়ার বিক্রি করছে।

তাই এ বিষয়ে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন করেছেন যে সিডিবিএলে  উদ্যোক্তা শেয়ার মার্ক করা থাকবে এবং তাদের বিক্রি করতে হলে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানাতে হবে। এবং  উদ্যোক্তারা কারণ উল্লেখ করে জানানোর পরে স্টক এক্সচেঞ্জ লক খুলে দিলেই তারা শেয়ার বিক্রি করতে পারব। আর এই লক খুলে দেয়ার সিস্টেম স্টক এক্সচেঞ্জ এর কাছে থাকবে। ফলে তারা না জানিয়ে এবং রাজস্ব ফাকি দিয়ে আর শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না।

আরও জানানো হয়, বর্তমানে অনেকগুলো কোম্পানি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যাদের বোর্ডে ৩০ শতাংশ শেয়ার এবং অনেক পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ শেয়ার নেই, কিন্তু তারা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনের সংস্কার করা হলেও তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। তাই  আইনের  সংস্কার  যাথাযথভাবে পালন এবং এই বিয়য়ে আর কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও আবেদন করবেন বলে জানান।

এবং ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে যে আইনি বাধ্যগতা আছে তা সংশোধনের জন্যও তারা বিএসইসির কাছে যাবেন। কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শেয়ার সংখ্যা বাড়াতে গেলে বর্তমানে যে সীমা দেয়া আছে তা থেকে বাড়ানোর জন্য বিএসইসির কাছে দাবি জানানো হবে। এর ফলে যেসব কোম্পানিতে মালিক পক্ষ কম শেয়ার ধারণ করছেন বা যাদের শেয়ার নেই, কিন্তু তারা কোম্পানি পরিচালনা করছেন, কোম্পানি ভালো কিছু করছে না এবং তারা স্টক এক্সচেঞ্জকেও কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে যদি নতুন কোনো পরিচালক আসার সুযোগ থাকে এবং ১০ শতাংশ শেয়ার বেশি নিয়ে পরিচালক বোর্ডে  আসতে চায়, সেই সুযোগ থাকে তাহলে মালিক পক্ষ চ্যালেঞ্জে এর মুখে পরবে। তাদের মালিকানা রাখার ব্যাপারে চিন্তা করবে, সেই বিষয়েও কিছু সংস্কার করা হবে।

তারা জানান, ২০১০ সালের পর থেকে ব্রোকার হাউজের শাখা খোলার বিষয়ে যে আইন আছে তা বুথ খোলার ব্যাপারে এতোটা কঠিন না। যেখানে বুথ খোলার বিষয়ে যে ২ কিলোমিটার সীমা দেয়া আছে সেটা বাড়িনোর জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করা হবে। বাজারের লেনদেন বাড়াতে হলে বুথের পরিমাণও বাড়াতে হবে, অনেক ব্যাংক আছে যাদের শাখার পরিমাণ কম কিন্তু তাদেরকে বুথ খোলার সীমা বাড়িয়ে দিলে লেনদেনের পরিমাণ বাড়বে।

ভবিষ্যৎতে চারটি সংঘঠন পুঁজিবাজার উন্নয়নের  আরো অনেক বিষয় নিয়ে একত্রেভাবে কাজ করবে বলে জানান।

বৈঠকে ডিএসই ছাড়াও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) এর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here