গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বানকো সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত

গ্রাহকের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বানকো সিকিউরিটিজ নামের ব্রোকারহাউজের লেনদেন স্থগিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আজ, ১৫ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্রোকারহাউজটি কোনো শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবে না।

সোমবার, ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, লেনদেন বন্ধের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসইর পর্ষদ। মঙ্গলবার মতিঝিল থানায় এ মামলা দায়ের করা হতে পারে।

জানা গেছে, ডিএসইর প্রাথমিক অনুসন্ধানে বানকো সিকিউরিটিজের (সদস্য নং-৬৩) সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে প্রায় ৬০ কোটি টাকার ঘাটতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ব্রোকারহাউজটির গ্রাহকদের যে পরিমাণ অর্থ জমা থাকার কথা বাস্তবে তারচেয়ে ৬০ কোটি টাকা কম আছে। বিস্তারিত তদন্তে ঘাটতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, বানকো সিকিউরিটিজের এই ঘটনা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসই) অবহিত করলে কমিশন ডিএসইকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। বিএসইসির নির্দেশনা অনুসারে, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসই।

শুধু গ্রাহক সমন্বিত হিসাবের ঘাটতি নয়, লেনদেন নিয়ে প্রতারণারও অভিযোগও আছে বানকো সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে।

গত বছরের শেষভাগে বানকো সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার আইপিও আবেদন শুরুর আগেই অবৈধভাবে ওই কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করার অভিযোগ উঠে। এর প্রেক্ষিতে ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) রবির আইপিওতে আবদনের জন্য বানকো সিকিউরিটিজকে অযোগ্য ঘোষণা করে।

এর আগেও বানকোর মতো আরও কিছু ব্রোকারহাউজে গ্রাহক-সমন্বিত হিসাবে কিছু ঘাটতি পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো বিএসইসির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ওই টাকা সমন্বয় করে দিয়ে হিসাব নিয়মিত করে। তাছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে ঘাটতির পরিমাণ এত বেশি ছিল না।

প্রথমতঃ ঘাটতির পরিমাণ অনেক বেশী হওয়া এবং ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ কেলেঙ্কারির কারণে শুরুতেই বানকো সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিএসইসি ও ডিএসই।

উল্লেখ, গত বছর ডিএসইর সদস্য প্রতিষ্ঠান ক্রেষ্ট সিকিউরিটিজের মালিকপক্ষ গ্রাহকদের ৪৮ কোটি টাকা আত্মসাত করে আত্মগোপন করেছিল। এ ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ডিএসইর মামলা এবং বিএসইসির হস্তক্ষেপে পুলিশ ওই ব্রোকারহাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ উল্লাহ ও তার স্ত্রী নিপা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

সূত্র : অর্থসূচক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here