গণস্বাস্থ্যের কিট বিএসএমএমইউ গ্রহণ করবে শনিবার

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত নভেল করোনাভাইরাস পরীক্ষার ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের কার্যকারিতা মাঠ পর্যায়ে শুরু হতে যাচ্ছে। এ পরীক্ষা চালাতে আগামী শনিবার, ০৯ মে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর সংশ্লিষ্ট কমিটি গণস্বাস্থ্যের কাছ থেকে কিট নেবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমরা বিএসএমএমইউকে যে কোনো সময় কিট দিতে প্রস্তুত আছি। দেশে চলমান দুর্যোগময় সময়ের কথা ভেবে আমরা চেয়েছিলাম তারা এটি আগে আগে নিয়ে পরীক্ষা করুক। কিন্তু তারা শনিবারের আগে নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিএসএমএমইউ মোট ১২’শ কিট নেবে। তবে সেটি নেবে পর্যায়ক্রমে। তারা এই কিট করোনায় আক্রান্ত এবং করোনা পরীক্ষা হয়নি এমন ব্যক্তিদের উপর পরীক্ষা চালাবে। এই কিটে প্রাপ্ত ফলাফল আরটি-পিসিআর (RT-PCR) কিটে প্রাপ্ত ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। তিনি আবারও আশা প্রকাশ করেন, তাদের জি র‍্যাপিড ডট ব্লট কিট কার্যকারিতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে।

উল্লেখ, আরটি-পিসিআর কিটে করোনার পরীক্ষা বেশ ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। কিন্তু গণস্বাস্থ্যের র‍্যাপিড কিটে খরচ হবে খুবই কম, যা ৩’শ টাকার নিচে থাকবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে। আর এ পরীক্ষায় সময় লাগবে ১৫ মিনিটের মতো।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ শুরু হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাপক পরিসরে পরীক্ষা করে আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু আরটি-পিসিআর এ এটি সম্ভব নয়। গণস্বাস্থ্যের কিট এ ব্যাপারে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

উল্লেখ, নানা তর্কবিতর্ক ও জটিলতার পর গত ৩০ এপ্রিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্যের র‍্যাপিড কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দেয়। তারা বিএসএমএমইউতে এই কিটের পরীক্ষা করাতে বলে। এর প্রেক্ষিতে বিএসএমএমইউ একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি কয়েক দফা বৈঠকের পর পরীক্ষার প্রস্তুতি চুড়ান্ত করেছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতির পরও কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু করতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগানোয় মঙ্গলবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কারণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যত দ্রুত এই কিটটির পরীক্ষা হওয়া দরকার সেভাবে তা হচ্ছে না। নানা জটিলতায় কেবলই তা পিছিয়েছে শুধু।

উল্লেখ, গত ২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তাদের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য একটি হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে ঔষধ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সে অনুষ্ঠানে সরকারের কেউই যায়নি। পরদিন গণস্বাস্থ্যের একটি প্রতিনিধি দল নিজেরা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কিট হস্তান্তর করার জন্য গেলেও তারা তা গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে প্রচণ্ড বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করেন, কিট বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠির প্রভাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কোনো সহায়তা করছে না।

পরে এক টেলিভিশন টক শোতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক দাবি করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা র‍্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার অনুমোদন করে না বলে তারা এই কিট ব্যবহার করবেন না।

অন্যদিকে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ব্যবহার করা না করার সিদ্ধান্ত তো পরে নেওয়া যাবে। তারা যেন অন্তত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দেন।

এমন টানাপোড়েনের মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল ঔসধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here