ক্ষুধায় যন্ত্রণায় তিন শিশুর মৃত্যু

আল জাজিরা অবলম্বনে লতিফুর রহমান: ক্ষুধায় যন্ত্রণায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গত বৃহস্পতিবার একই পরিবারের দুই, চার ও আট বছরের তিন শিশুর মৃত্যু  হয়েছে।

নয়াদিল্লি পৃথিবীর দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারতের রাজধানী। এটা এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে কর্তৃপক্ষকে দুবার ময়না তদন্ত করতে হয়েছে। পুলিশ বলছে বাচ্চাদের রিক্সা চালক বাবা তাদের ছেড়ে চলে গেছে, আর মা মানসিকভাবে অসুস্থ।

পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট বলছে, তারা মারাত্নক পুষ্ঠিহীনতার কারণে মারা গেছে।  হাসপাতালের ময়না তদন্ত  পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে ক্ষুধার কারণে তারা মারা গিয়েছে। তাদের শরীরে কোন চর্বি খুঁজে পাওয়া যায়নি যা মারাত্নক পুষ্টিহীনতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।’

আল জাজিরাকে নয়াদিল্লির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ড. অমিতা বলেন, ‘আমরা যখন তাদের শরীর ফেড়ে ফেললাম পাকস্থলিতে কিছু ছিল না। মূত্রথলি ও মলদ্বার সম্পূর্ণ খালি ছিল। গত আট নয় দিনে খাওয়ার কোন চিহ্ন তাদের শরীরে ছিল না।’

পুলিশ মামলা করেছে এবং শিশুদের মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিখিল দে নামের একজন সমাজকর্মী এ ঘটনাকে ‘বর্ণাতীত কষ্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়ার ঘটনা ভারতের বিভিন্ন গ্রামে ঘটছে। কিন্তু খোদ রাজধানী দিল্লি, যেখানে সম্পদ ও উপকরণের প্রাচুর্য রয়েছে সেখানে এমন ঘটনা খুবই যন্ত্রনাদায়ক।’

২০১১ সালের সরকারী তথ্য মতে ভারতে সাড়ে ছয় কোটি মানুষ বস্তিতে বাস করে যেখানে মৌলিক চাহিদা পূরণের ঘাটতি আছে। এ বছর অভুক্ত থেকে কয়েকটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে ভারতের অন্যতম গরীব প্রদেশ ঝাড়খন্ডে।

নিখিল দে আরো বলেন, ‘সঙ্কট দেখা দিয়েছে বৈষম্য ও বিতরণ পদ্ধতির ব্যর্থতার কারণে। শতকরা এক ভাগ মানুষের হাতে সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু নিচের দিকে যারা আছে তাদের দিকে সম্পদের প্রবাহ নেই। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্য আমাদের সরকারী বিতরণ পদ্ধতি ঢেলে সাজানোর জন্য পুনরায় বিবেচনার করা প্রয়োজন।’

দারিদ্র-বিরোধী দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬৭ কোটিরও বেশি ভারতীয় নাগরিক দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই করছে। এই সংখ্যা ভারতীয় জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী এক শতাংশ মানুষ গত বছর দেশটির জাতীয় আয়ের ৭৩ শতাংশের যোগান দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here