কালো টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী অর্থবছরের বাজেটে বোনাস লভ্যাংশ ও সীমার অতিরিক্ত রিজার্ভের উপর কর আরোপের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে আবারও আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভুইঁয়া।

সোমবার, ১৭ জুন সন্ধ্যায় ‘ট্যাক্স, ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড পলিসিজ ফর ইনক্লুসিভ ইকোনোমিক গ্রোথ’ শিরোনামের এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস দেন।

ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্ট, বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এই বৈঠকের আয়োজন করে। রাজধানীর নীলক্ষেতে আইসিএমএবির সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আলোচনার বড় অংশই ছিল ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে। বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে বোনাস শেয়ার এবং রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের উপর কর আরোপ এবং অপ্রদর্শিত অর্থ (কালো টাকা) বিনিয়োগের সুযোগ সংক্রান্ত ইস্যু।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোঃ মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেন, বোনাস ও রিজার্ভের উপর কর আরোপের প্রস্তাব পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সুপারিশের ভিত্তিতেই করা হয়েছে। বাজেটের আগে তারা বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসেছিলেন। তখন তারা এসব সুপারিশ করে বলেছিলেন, অনেক কোম্পানি ঠিকমত মুনাফা করে না তবু বোনাস শেয়ার দেয়, আবার কোনোটি বছরের পর বছর বোনাস দিয়ে মূলধন বাড়াতে থাকে এবং এক পর্যায়ে কেটে পড়ে। তারা তখন দোয়েল গ্রুপ, বিডি লাগেজ, মার্ক বিডিসহ কিছু কোম্পানির কথা বলেছিল। আবার কিছু কোম্পানি বিপুল রিজার্ভ রাখলেও বিনিয়োগকারীদের কম লভ্যাংশ দেয় বলে তারা অভিযোগ করেছিলেন। তার প্রেক্ষিতেই বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের কথা ভেবে এসব প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন যেহেতু এর নেতিবাচক দিক নিয়েও জোরালো আলোচনা হচ্ছে, তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আশ্বাস দেন, তিনি বোনাস ও রিজার্ভে করের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। পুঁজিবাজারের জন্য যদি সত্যিই তা ক্ষতিকর মনে হয় তাহলে প্রস্তাব দুটি বাদ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবেন।

তিনি জমি কেনায় কালো টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাবটিও পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেন।

উল্লেখ, গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার ইস্যু এবং  রিজার্ভের উপর ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাব অনুসারে, কোনো আয়করবছরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস ও রিজার্ভের সমষ্টি তার পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে বাড়তি অংশের উপর ১৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। বাজেটে আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম বলেন, রিজার্ভে কর আরোপের বিষয়টি হবে অনৈতিক ও অন্যায্য। এটি হবে দ্বৈত কর, কারণ একটি কোম্পানি তার মুনাফার উপর কর দেওয়ার পরই একিট অংশ রিটেইনড আর্নিংস ও সাধারণ রিজার্ভসহ বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভে রাখে। একই আয়ের জন্য দু’বার কর দেওয়ার বিষয়টি আয়করের মূল প্রিন্সিপালের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বৈঠকে আনোয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও জমিকে এই সুবিধার বাইরে রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জমি কেনায় কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে জমির দাম হু হু করে বেড়ে যাবে। তাতে উদ্যোক্তারা শিল্প-প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি কিনতে পারবেন না। বিনিয়োগের গতি তাতে থমকে যাবে।

বৈঠকটির সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম এফসিএমএ। এছাড়াও বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ এফসিএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here