কারসাজির অপরাধে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ারমূল্য কারসাজির অপরাধে পুঁজিবাজারে বহুল আলোচিত ব্যক্তি মো. সাইফুল ইসলামসহ ৮ ব্যক্তি এবং ৩ প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সাইফুলকে জরিমানা করা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। ১৯ ফেব্রুয়ারি, অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন বৈঠকে জরিমানার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সাম্প্রতি পুঁজিবাজারের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি মো. সাইফুল। পুঁজিবাজারের বিভিন্ন লোকসানী কোম্পানিগুলোর একাংশের শেয়ার নিয়ে সাইফুল ও তার চক্র নানা কারসাজি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এসব কোম্পানি দাম কয়েকগুণ পর্যন্ত বেড়েছে এই চক্রের কারসাজিতে চক্রান্তে।

অভিযোগ আছে, বস্ত্র শিল্প খাতের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠি আলিফ গ্রুপের কাছ থেকে পাওয়া একটি তহবিল দিয়ে বাজারে তিনি এসব অপকর্ম করে গেছেন। একই কায়দায় আলিফ গ্রুপের মালিকানাধীন একটি কোম্পানির শেয়ারের দামও অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এর মধ্যে বিডি অটোকার ও লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ার মূল্য নিয়ে কারসাজির অপরাধে গত ২২ জানুয়ারি বিএসইসি আজিমুল ইসলাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসকে ২ কোটি টাকা জরিমানা করে।

আজিমুল আলিফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আজিমুল ইসলাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে আলিফ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামও রয়েছেন। তবে তখন বিএসইসির শাস্তির খড়গ থেকে ঘটনাচক্রে নাটের গুরু সাইফুল পার পেয়ে যায়।

সাইফুলের এই ‘সাফল্য’ তাকে নজরে নিয়ে আসে। গত ২০ জানুয়ারি সাইফুল কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ ছেড়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজে যোগ দেন। এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) থেকে হয়ে যান ব্রোকারহাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

সম্প্রতি বাজারে মুন্নু জুট স্টাফলার্স, মুন্নু সিরামিক, কুইন সাউথ টেক্সটাইল , ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম। কারসাজির মাধ্যমে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে সন্দেহ হয় বিএসইসির।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই কারসাজির সঙ্গে কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তে বিএসইসি একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত ছিল আলোচিত সাইফুলসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠান।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে  কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের তৎকালীন এভিাপি মো. সাইফুল ইসলাম অ্যান্ড অ্যাসেসিয়েটস, মো. আলী মনসুর অ্যান্ড অ্যাসেসিয়েটস, মকবুল কুমার সাহা অ্যান্ড অ্যাসেসিয়েটস, কমার্স ব্যাংকের ভিপি মো. আব্দুল হালিম, ভিপি ও সিএফও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পদ্মা গ্লাস লিমিটেড  অ্যান্ড অ্যাসেসিয়েটস, আবদুল কাইয়ুম অ্যান্ড অ্যাসেসিয়েটস উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিতে  ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন ১৯৬৯ এর সেকশন ১৭ এর (ই)(ভি) লংঘন করেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শুনানীতে ডেকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু শুনানীতে তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কারসাজিতে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে মো. আলী মনসুরকে ১০ লাখ টাকা, মুকুল কুমার সাহাকে ১ লাখ টাকা, লিপিকা সাহাকে ২ লাখ টাকা, মো. আব্দুল হালিমকে ২৫ লাখ টাকা, কমার্স ব্যাংকের ভিপি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ২৫ লাখ টাকা, আব্দুল কাউয়ুম ৫ লাখ টাকা এবং মরিয়ম নেছাকে ৫ লাখ টাকা টাকা জরিমানা করা হয়। কারসাজিতে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পদ্মা গ্লাস লিমিটেডকে ৫ লাখ টাকা, রহমত মেটালকে ২ লাখ টাকা এবং কাউয়ুম অ্যান্ড সন্সকে ৫ লাখ জরিমানা করা হয়। এছাড়া পদ্মা ক্যানস ও কালারসকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত হয় কমিশনের বৈঠকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here