কপারটেকের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিএসইসিকে জানানোর নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সর্ম্পকে জানানোর জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ডিএসই কর্তৃপক্ষের এক চিঠির জবাবে কমিশন এই নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার, ২৪ জুলাই এ নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গত ২৩ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত করার জন্য ডিএসই লিস্টিং রুলস, ৫ এর ৩ ধারা থেকে অব্যাহতি (ওয়েভার) চেয়ে বিএসইসিতে চিঠি দেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ডিএসই লিস্টিং রুলস, ৫ এর ৩ ধারা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করলে ওই কোম্পানির আইপিও সাবস্ক্রিপশন (আইপিও আবেদন গ্রহণ) শেষ হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে হবে। তবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রে সেই সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। ফলে ওই ধারাটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে ডিএসই।

ডিএসইর চিঠির ১ দিনের ব্যবধানে কমিশন তাদের জবাব জানিয়ে চিঠি দেয়। এক্ষেত্রে তারা ডিএসইর প্রস্তাবিত লিস্টিং রুলস, ৫ এর ৩ ধারা থেকে অব্যাহতি না দিয়ে, ৫ এর ৪ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। যে ধারায় বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্তি নিয়ে যেকোন রিকয়ারমেন্ট বা প্রভিশনিং শীথিল করতে পারবে।

এর আগে ২২ জুলাই আইনগতভাবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ না থাকায় শর্তসাপেক্ষে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। আর শর্ত হিসাবে রাখা হয়, লিস্টিং রুলস, ৫ এর ৩ ধারা থেকে অব্যাহতিতে বিএসইসির অনুমোদন।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারবাজার থেকে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করার অনুমোদন পায়। এ টাকা উত্তোলনে ৩১ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির আইপিওতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ফলে চলতি বছরের ২৬ মে’র মধ্যে কোম্পানিটি ডিএসইতে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু ডিএসই পর্ষদ অনুমোদন না দেয়ায় কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি আটকে যায়। এরপর ডিএসই’র পর্ষদ কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির জন্য ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দিয়ে বিএসইসির কাছে দিক নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেয়। তবে বিএসইসি ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো দিকনির্দেশনা বা পরামর্শ দেয়া থেকে বিরত থাকে।

গত ১১ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ম্যানেজমেন্টের কাঁধে দায়িত্ব দেয় পরিচালনা পর্ষদ। এরআলোকে ম্যানেজমেন্ট কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের তালিকাভুক্তির বিষয়ে আইন-কানুন পর্যালোচনা করে। যা ডিএসইর সভায় দাখিল করা হয়। যা যাছাই-বাছাই শেষে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে শর্তসাপেক্ষে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পর্ষদ।

এর আগে ২৩ মে আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতির অভিযোগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ। আর ৪ জুলাই কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ ইস্যুতে অসহযোগিতার জন্য বিতর্কিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আহমেদ অ্যান্ড আক্তারের প্রাকটিসিং লাইসেন্স নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সব ধরনের কোম্পানির নিরীক্ষা কাজের যোগ্যতা হারিয়েছে।

উল্লেখ্য, আইপিওতে কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here