কপারটেকের তালিকাভূক্তিতে সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ ডিএসইর

স্টাফ রিপোর্টার : সম্প্রতি আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তালিকাভুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অনুরোধ করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বিধি অনুসারে কপারটেকের তালিকাভুক্তির নির্ধারিত সময়সীমা রবিবার, ২৩ জুন শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানিটি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত হলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্তির বিষয়টি ঝুলে আছে। ডিএসই কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করা না করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশনা চেয়ে গত মাসে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল। কিন্তু বিএসইসির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিএসইসির কাছ থেকে নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয় ডিএসইর চিঠিতে।

আইন অনুযায়ী সাবস্ক্রিপশন (আইপিওর আবেদন ও টাকা জমা) শেষ হওয়ার ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত না হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে হয়। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সাবস্ক্রিপশন শেষ হয় ৬ এপ্রিল। সে হিসেবে তাদের তালিকাভুক্তির সময়সীমা ২৩ জুন শেষ হয়েছে।

তবে কোনো কারণে ডিএসই কপারটেককে তালিকাভুক্ত না করলেও বিনিয়োগকারীদেরকে আইপিও আবেদনের টাকা ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কোম্পানিটির উপর প্রযোজ্য হবে কি-না তা স্পষ্ট নয়। কারণ ইতোমধ্যে একটি স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তালিকাভুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে সিএসই তালিকাভুক্ত করলেও সেখানে কপারটেকের শেয়াল লেনদেন শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। কারণ ডিএসই শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করবে কি-না তা নিশ্চিত নয়। যদিও অতীতে ড্যাফোডিল কম্পিউটার, খাজা মোজাইক, জেএমআই সিরিঞ্জসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে ডিএসই তালিকাভুক্ত না করলেও সিএসইতে সেগুলো তালিকাভুক্ত হয় এবং লেনদেনও হয়। কয়েক বছর পর ডিএসইও ড্যাফোডিল কম্পিউটার এবং জেএমআই সিরিঞ্জকে তালিকাভুক্ত করে।

তবে কপারটেকের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। সিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ডিএসই কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত না করা পর্যন্ত তারা এর শেয়ার লেনদেন শুরু করবেন না।

ডিএসই কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদনে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে প্রথমে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) কোম্পানিটির নীরিক্ষা সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখার জন্য আইসিএবিকে নির্দেশ দেওয়ায় এফআরসির রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা জানায় ডিএসই। পরবর্তীতে ডিএসই পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে বিএসইসির কাছে অনুরোধ জানানো হয়।

আইপিওর মাধ্যমে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এজন্য ১০ টাকা ইস্যু মূল্যের ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করে তারা। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ কোম্পানিটি ভবন ও অন্যান্য পূর্তকাজের পাশাপাশি প্লান্টের যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপনের কাজে বিনিয়োগের কথা রয়েছে। আংশিক অর্থ ব্যাংকঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে খরচ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here