এনআরবিসি ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন

এক যুগের বিরতির পর শেয়ারবাজারে আসার অনুমোদন পেল বেসরকারি খাতের আরেকটি ব্যাংক। ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে গঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক (এনআরবিসি) শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গতকাল বুধবার ব্যাংকটির শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

বিএসইসি জানিয়েছে, দীর্ঘ এক যুগ পর গতকালের বৈঠকে ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন করা হয়। এর আগে সবশেষ ২০০৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন করা হয়েছিল। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে এনআরবিসি ব্যাংক শেয়ারবাজার থেকে ১২০ কোটি টাকার পুঁজি সংগ্রহ করবে। এ জন্য ব্যাংকটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুতে ১২ কোটি শেয়ার বিক্রি করবে।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আইপিও চাঁদা গ্রহণের তারিখ ঠিক করা হবে। আইপিওর মাধ্যমে ব্যাংকটি যে পুঁজি সংগ্রহ করবে, তার মধ্য থেকে ১১০ কোটি টাকা সরকারি বিভিন্ন সিকিউরিটিজে, ৬ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ শ্রেণির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবে। বাকি চার কোটি টাকা আইপিও–প্রক্রিয়া বাবদ খরচ করা হবে।

২০১৩ সালে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে বেসরকারি নয়টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। এর মধ্যে প্রবাসীদের সমন্বয়ে গঠিত এনআরবিসি ব্যাংকও একটি। যাত্রা শুরুর পরপরই ব্যাংকটি বিভিন্ন ঋণ অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফরাছত আলী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মজিবর রহমানকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালে অনুমোদন দেওয়ার সময় এনআরবিসিসহ চতুর্থ প্রজন্মের সব কটি ব্যাংককে কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকগুলো সেই শর্ত পূরণ না করে দফায় দফায় তালিকাভুক্তির সময় বাড়িয়ে নেয়।

এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৫৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আইপিওর মাধ্যমে ১২০ কোটি টাকা পুঁজি সংগ্রহ করার অনুমোদন পাওয়ার পর এ মূলধন বেড়ে দাঁড়াবে ৭০২ কোটি ৫২ লাখ টাকায়। দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রমালিকানাধীন, বেসরকারি, বিদেশি ও বিশেষায়িত মিলিয়ে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ৬০। এসব ব্যাংকের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে ৩০টি।

এদিকে বিএসইসির গতকালের সভায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি স্টাইলক্র্যাফটের চেয়ারম্যান, কোম্পানি সচিব, চার শীর্ষ ব্যক্তিসহ আরও বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কারসাজির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। বিএসইসি জানিয়েছে, কারসাজির মাধ্যমে যে যত টাকা মুনাফা করেছে, তার বেশি অর্থ জরিমানা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here