ঈদের ছুটির আগে পুঁজিবাজার খোলার অনুরোধ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ঈদের ছুটির আগে বিনিয়োগকারীর স্বার্থে পুঁজিবাজার খুলে দেওয়ার জন্য আবারও আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক মোঃ রকিবুর রহমান।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রকিবুর বলেছেন, লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থে ঈদের আগে অন্তত কয়েক দিনের জন্য পুঁজিবাজার খুলে দেওয়া দরকার।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারহাউজ সবারই কার্যক্রম বন্ধ। তাতে কোনো বিনিয়োগকারী ব্রোকারহাউজ থেকে টাকা তুলতে পারছে না, বিনিয়োগ করতে পারছে না এবং দৈনন্দিন জীবনজীবিকা চালানোর জন্য শেয়ার বিক্রিও করতে পারছে না।

রকিবুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রী ব্যাংক ব্যবস্থা যদি খোলা থাকতে পারে তাহলে পুঁজিবাজার কেন বন্ধ থাকবে? পুঁজিবাজারের কোন ব্রোকারেজ হাউসে বিনিয়োগকারীদের যেতে হয় না; সবকিছু টেলিফোন, মোবাইল অ্যাপস, এসএমএস এবং ইমেইলের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সব চেয়ে দুর্ভাগ্য হলো অর্থমন্ত্রী বিশ্বের সব পুঁজিবাজার খোলা শুধু বাংলাদেশই তার ব্যতিক্রম। পৃথিবীর সকল দেশের অর্থনীতি এবং পুঁজিবাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকটি দেশ চেষ্টা করছে কিভাবে প্রণোদনা দিয়ে, বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে, লিস্টেড কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট ট্যাক্স কমিয়ে, মিউচুয়াল ফান্ড এবং বন্ড মার্কেটকে স্ট্রং করে পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখা যায়; যাতে করে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন না হয়, যাতে করে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। আমাদের দেশেও পুঁজিবাজারে লিস্টেড কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অস্বাভাবিক দরপতন যাতে না হয় তার জন্য আমাদের পুঁজিবাজারবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দরপতন ঠেকানোর জন্য আপনি যে ঐতিহাসিক ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে যে সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন তা ব্যাপকভাবে প্রসংসনীয়।

ফ্লোর প্রাইসের অর্থ হল প্রত্যেকটি শেয়ারের লোয়ার সাইডে একটি লোয়ার প্রাইস নির্ধারণ করে দিয়েছেন অর্থাৎ লোয়ার প্রাইস টাচ হওয়ার সাথে সাথে অটোমেটিক্যালি ওই কোম্পানির ট্রেড বন্ধ হয়ে যাবে। অতএব ব্যাপক দরপতনের কোন সুযোগই নেই। আমি মনে করি বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি আপনি অত্যন্ত যোগ্য এবং পুঁজিবাজার অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি। আশা করি আপনি কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে পুঁজিবাজারের লেনদেন খুলে দিবেন, এতে হয়তোবা লেনদেন কম হবে, টার্নওভার কমে যাবে কিন্তু তাতে যদি লক্ষ্য লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাজারখানেক বিনিয়োগকারীও লাভবান হয় এটাই হবে আপনার সফলতা। অর্থমন্ত্রী সিদ্ধান্ত আপনাকে দিতে হবে, বাস্তবতার সাথে থাকতে হবে। আমরা যেন ইমোশন দ্বারা পরিচালিত না হয়ে বিশ্ব পুঁজিবাজার থেকে আলাদা হয়ে না যাই অথবা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, যারা আমাদের দেশের পুজিবাজারে ইনভেস্ট করে এবং দেশের লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী তারা যাতে পুঁজিবাজারের ওপর আস্থা হারিয়ে না ফেলে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। ইনশাল্লাহ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here