স্টাফ রিপোর্টার: ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের পরিমান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)  তালিকাভূক্ত সকল কোম্পানির মধ্যে র্শীষে দু’য়ে অবস্থান করছে। অন্যদিকে পাবলিক শেয়ার হোল্ডিং আছে মাত্র ৩.৫৬ শতাংশ। সূত্র ডিএসই

এদিকে বেশ আগেই বাজার মূলধন (মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন) বিবেচনায় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ছাড়িয়েছে কোম্পানি। বাংলাদেশে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে যাদের বাজার মূলধন ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ডিএসই তে তালিকাভূক্তের পর থেকে ইপিএস ও লাভ্যাংশ প্রদানের  ক্ষেত্রে কোম্পানিটির প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে।

দেশের একমাত্র কমার্শিয়াল ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্লান্ট (সিআইপিপি) ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল)। নিজস্ব ব্যবস্থায় বিদ্যুত্ উত্পাদন করে তা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সরাসরি সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউনাইটেড পাওয়ার তাদের উত্পাদিত বিদ্যুত্ মূলত রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) সরবরাহ করে। এজন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে তাদের দুটি পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে। ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) ৮৬ মেগাওয়াট ও চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) ৭২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকায় ইউনাইটেড পাওয়ারের গ্রাহকও নিয়মিত হারে বাড়ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকায় ইউনাটেড পাওয়ারের সরবরাহকৃত বিদ্যুতের দামও তুলনামূলক বেশি। আর সরকার যখনই বিদ্যুতের দাম বাড়ায়, এ কোম্পানির সরবরাহকৃত বিদ্যুতের দামও আনুপাতিক হারে বাড়ে।

কোম্পানিটি সরাসরি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। যেখানে অন্যান্য বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এ কারণে তাদের সঙ্গে অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা নেই। উৎপাদিত বিদ্যুতের সিংহভাগ ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে যাচ্ছে। আর বাকী  বিদ্যুৎ অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাছে বিক্রি করছে।

বিদ্যুত্ খাতের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও ইউনাইটেড পাওয়ার ইপিজেডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ৩০ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ। ঢাকা ইপিজেডের সঙ্গে কোম্পানির চুক্তি ২০০৮ সাল ও চট্টগ্রাম ইপিজেডের সঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর সারা দেশে ব্ল্যাক আউট হলেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে বিদ্যুত্ পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

সফল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে  ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি অায় ও প্রকৃত সম্পদমূল্যর (এনএভি)  এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ন্যায় ধারাবাহিকভাবে ক্যাশ ডিভিডেন্টের পরিমান সিংহভাগ শেয়ার পরিচালকদের হাতে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে সামান্য পরিমান শেয়ার। সূত্র ডিএসই।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালের জন্য ৩৫ শতাংশ নগদ এবং ২০১৪ সালের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ২০১৬  ২০১৭ সালের জন্য ১২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। ২০১৭ সালের জন্য ৯০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

শেয়ার হোল্ডিং প্যার্টনে মোট শেয়ারের ৯০.০০ শতাংশই কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে ,প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে  ৬,৪৪ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩.৫৬  শতাংশ শেয়ার। কোম্পানিটির ৮০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৩৯৯ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

সূত্র ডিএসই।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here