ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ যেন বর্ষাকাপ, বেজায় চটেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা

ডেস্ক রিপোর্ট : ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ হয়ে গেছে ‘বর্ষাকাপ’। বৃষ্টিতে ১৮ ম্যাচের ৪টিই পরিত্যক্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ম্যাচে ওভার কর্তন করা হয়েছে। এমতাবস্থায় সমর্থকদের পাশাপাশি বেজায় চটেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। ইংল্যান্ডের মাঠগুলোর উইকেট শুধু ত্রিপল দিয়ে ঢাকা থাকে। আউটফিল্ড ঢাকার কোনো ব্যবস্থাই নেই। যে কারণে সারা মাঠ শুকনো না থাকলে ম্যাচ হওয়া সম্ভব নয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ভারত আর নিউজিল্যান্ডকে ১ পয়েন্ট করে ভাগ করে নিতে হয়েছে।

ট্রেন্ট ব্রিজের পিচ ও তার চার পাশই শুধু ত্রিপল দিয়ে ঢাকা ছিল। কিন্তু ক্রিকেট তো শুধু পিচ ও তার চারপাশের জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সারা মাঠ শুকনো না থাকলে ম্যাচ হওয়া সম্ভব নয়। মাঠ সামান্য ভেজা থাকলে বড় চোট লাগারও আশঙ্কা থাকে। তা জেনেও আইসিসি কেন সারা মাঠ ঢাকার ব্যবস্থা করছে না? এই প্রশ্ন শুধু ক্রিকেটপ্রেমীদেরই নয়, সাবেক ক্রিকেটারদেরও। সোশ্যাল সাইটে তো ইতিমধ্যেই এই আসরকে ‘মুনসুন কাপ’ বা ‘বর্ষাকাপ’ বলে ট্রল করা হচ্ছে।

ব্রায়ান লারা থেকে কেভিন পিটারসেন- সবাই সমালোচনা করেছেন ট্রেন্ট ব্রিজের আচ্ছাদন নিয়ে।  কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা টিভিতে ইডেনের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেও কী ভাবে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ শুরু করা যায়, তা কিন্তু ইডেনের থেকে শেখা উচিত। সারা মাঠ ঢাকার মতো আচ্ছাদন ওদের রয়েছে। এই নিয়ে চারটি ম্যাচ ভেস্তে গেল, তবুও বুঝতে পারছি না, কেন আইসিসি এ বিষয়ে সতর্ক হচ্ছে না।’

সাবেক তারকা কেভিন পিটারসেনও তার দেশের অব্যবস্থা নিয়ে লজ্জিত, ‘পিচের চার পাশ ঢেকে দিলে আদৌ কোনো লাভ হয়? বৃষ্টি শেষ হওয়ার পরে মাঠ শুকোতে তো ২ ঘণ্টার বেশি লেগে যায়। তাছাড়া ভেজা মাঠে ক্রিকেটারেরা খেলার ঝুঁকি কেন নেবে? আইসিসির উচিত অবিলম্বে অতিরিক্ত আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করে সারা মাঠ ঢেকে দেওয়া। তাতে মাঠকর্মী বেশি লাগতে পারে। কাউন্টির বিভিন্ন ছোট মাঠ থেকে মাঠকর্মী নিয়ে আসাই যায়।’

শুধু ট্রেন্ট ব্রিজ কেন, এখনও পর্যন্ত যে ক’টি ম্যাচ বৃষ্টির জন্য ভেস্তে গিয়েছে তার একটিতেও পুরো মাঠ ঢাকা দেওয়ার মতো আচ্ছাদন দেখা যায়নি। নিউজিল্যান্ডের সাবেক অল-রাউন্ডার স্কট স্টাইরিশ বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজকদের খানিকটা সতর্ক থাকা উচিত ছিল। সবাই জানে এই সময় ইংল্যান্ডে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হতেই পারে। কিন্তু শুধু পিচ ঢাকা দিয়ে কী করে আমরা আশা করতে পারি যে, বৃষ্টি থামলেই দশ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ শুরু হয়ে যাবে?’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here