আর্থিক সংকটে ইউনাইটেড এয়ারের নতুন পর্ষদ

স্টাফ রিপোর্টার : শেয়ারবাজারে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে নতুন করে চালুর উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে সাতজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়োগ দেয়া নতুন পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক কার্যক্রম চালাতেই পড়েছে তহবিল সংকটে। আর এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিএসইসির সহায়তা চেয়েছেন তারা।

কোম্পানি-সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৫ বছর থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোম্পানির দায় ও লোকসানে বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানির প্রধান সমস্যা হলো তহবিলের অভাব। ৮২৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ের খরচ বহন করতে পারছে না। এছাড়া অফিস স্টাফদের বেতনও দিতে পারছে না। আর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র পরিচালকদের তহবিল জোগান দেওয়ার সামর্থ‌্য নেই। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করাই ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালনা পর্ষদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারল্য সংকট দূর করতে নতুন পরিচালনা পর্ষদকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বিএসইসি।

বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ বিকেলে আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে বিএসইসির চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। দুই পক্ষের আলোচনায় কোম্পানির নতুন পরিচালনা পর্ষদ এসব তথ্য তুলে ধরে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ডুবন্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এর ফলে ইউনাইটেড এয়ারে আটকে থাকা বিনিয়োগ ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেন, ‘এখনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়নি। আগামী সপ্তাহে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ আলোচনায় বসবো। পরবর্তী সময়ে আমরা অফিসে বসে বুকস অব অ্যাকাউন্টস দেখবো। এরপর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বলা যাবে। আর আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে দেখবো, কিভাবে কোম্পানিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়। আমাদের চেষ্টা থাকবে বিনিয়োগকারীদের লগ্নি করা অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

এ বিষয়ে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে যাদের নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে তাদের সিকিউরিটিজের যেসব আইন-কানুন রয়েছে, সেগুলো মেনে কোম্পানিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য বলা হয়েছে। আইন মেনে যতটুকু সহযোগিতা করা সম্ভব, বিএসইসির পক্ষ থেকে তা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।’

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাদ দিয়ে সাতজন নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা হলেন কাজী ওয়াহিদ উল আলম, এম সাদিকুল ইসলাম, মাসকুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. বদরুজ্জামান ভূইয়া, মুহাম্মদ ইউনুস ও মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ। পরবর্তী সময়ে সৈয়দ এরশাদ আহমেদ নামে আরও একজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি।

প্রসঙ্গত, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে ১ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তালিকাভুক্তির পরের বছর ২০১১ সালে কোম্পানিটি ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে ২১ কোটি রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩১৫ কোটি টাকা শেয়ারবাজার থেকে সংগ্রহ করে। ৮২৮ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮২ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০টি। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ১১ দশমিক ০৭ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কোন শেয়ার নেই এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে টানা ৯ বছর শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ দেয়নি ইউনাইটেড এয়ার। এই ব্যর্থতার কারণে ২০১৬ সাল থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ওভার দ্যা কাউন্টার মার্কেটে (ওটিসি) অবস্থান করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here