আফ্রিদির অনুরোধ ‘আমাকে আস্তে বল করো’

ক্যারিয়ারে বাঘা বাঘা কত বোলারের মুখোমুখি হয়েছেন শহীদ আফ্রিদি! বাঘা বাঘা কত বোলারকে বাউন্ডারিছাড়া করেছেন কত শতবার। সেই আফ্রিদিই কিনা কাউকে অনুরোধ করছেন তাঁকে আস্তে বল করার জন্য! তবে কি ৪০ বছর বয়স তাঁর ব্যাট আর চোখের ধারে প্রভাব ফেলছে?

বয়সের ছাপ ব্যাটিংয়ে পড়ে ঠিকই, তবে আফ্রিদির প্রতিপক্ষকে আস্তে বল করতে অনুরোধ করার মতো দিন এখনো আসেনি। সেটি সাবেক পাকিস্তান অলরাউন্ডার করেছেন মজা করেই। আফ্রিদির এই অনুরোধ কার প্রতি? পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার হারিস রউফ।

গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট পিএসএলে (পাকিস্তান সুপার লিগ) চোখ রাখলে এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা, কেন রউফের কাছে মজা করে এমন অনুরোধ করেছেন আফ্রিদি। গত রোববার পিএসএলের দ্বিতীয় এলিমিনেটরে আফ্রিদির মুলতান সুলতানস ২৫ রানে হেরে যায় রউফের লাহোর কালান্দার্সের কাছে। এই কালান্দার্সেই খেলেছেন বাংলাদেশের বাঁ হাতি ওপেনার তামিম ইকবাল।

তা সেদিন হারের পথে মুলতানের ইনিংসে আফ্রিদিকে দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করেন রউফ। ১৮৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা মুলতানের ইনিংসে বেশ বড় ধাক্কা হয়েই এসেছিল উইকেটটা। ইনিংসের ১৪তম ওভারের চতুর্থ বলে রাইলি রুশো আউট হতে আফ্রিদি যখন মাঠে নামেন, মুলতানের রান তখন ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৬। ৩৮ বলে তখন দরকার ৬৭ রান। আফ্রিদিসুলভ একটা ইনিংসই তখন পারত মুলতানকে বাঁচাতে।

কিন্তু তা আর হলো কই! আফ্রিদি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্দান্ত এক ইনসুইং ইয়র্কারে তাঁর স্টাম্প ছত্রখান। সেটি যত মুগ্ধতা ছড়িয়েছে, ততটা বিস্ময় ছড়িয়েছে তার পরের ঘটনাটি। আফ্রিদিকে আউট করেই দুহাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রউফ! ম্যাচ ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরে আলোচনার খোরাক হয়েছে ওই ঘটনাটি, সে সময়ও ধারাভাষ্যকার থেকে শুরু করে সবাই ছিলেন বিস্মিত।

ধারাভাষ্যকার তো বলেই বসেন, ‘এ তো দুর্দান্ত এক বল করেছ, কেন ক্ষমা চাইছ!’ পরে ম্যাচের মধ্যেই ধারাভাষ্যকার এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন রউফের কাছে। কেন করেছিলেন এ কাজ? রউফের জবাব এসেছিল, ‘উনি সিনিয়র খেলোয়াড়, আমি আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম, আজ শহীদ ভাইকে আউট করলে এটা করব।’

পরে ক্রিকইনফোতে প্রকাশিত এক ভিডিওতেও রউফ বলেছেন, ‘আমি সাধারণত উইকেট নেওয়ার পর অনেক আগ্রাসীই থাকি। কিন্তু শহীদ ভাইকে যখন আউট করলাম, তখন ব্যাপারটা আলাদা ছিল। তিনি পাকিস্তানের একজন সুপারস্টার। পাকিস্তানের হয়ে অসাধারণ খেলেছেন, অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন। তাই আমি তাঁকে সম্মান দেখানোটা জরুরি ছিল।’

হাত জোড় করাটা যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ছিল না, তা-ও জানিয়েছেন রউফ, ‘আমি আসলে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইনি, আমি শুধু তাঁকে সম্মান দেখাতে চেয়েছি। পাকিস্তানের জন্য তিনি যা করেছেন, তাতে আমার মনে অনেক সম্মানের জায়গায় আছেন তিনি। সেই সম্মান প্রকাশ করার ভঙ্গি ছিল সেটি (হাত জোড় করা)।’

ইএসপিএনের ওই ভিডিও রিটুইট করে আফ্রিদি প্রথমে মজা করে লিখেছেন, ‘হারিস, ওটা দারুণ, খেলার অসাধ্য এক ইয়র্কার ছিল! দারুণ বল করেছ। দয়া করে এর পরের বার থেকে আমাকে আস্তে বল কোরো। ফাইনালে যাওয়ায় কালান্দার্সকে অভিনন্দন।’

ফাইনালে অবশ্য কাল তামিম-রউফদের কালান্দার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে পিএসএলের শিরোপা জিতেছে বাবর আজমের করাচি কিংস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here