আইপিও পূর্ব সকল শেয়ার ৩ বছর লক-ইন রাখার সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার : বিতর্কিত প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) পূর্ব প্লেসমেন্টে শেয়ার ইস্যু (ক্যাপিটাল রেইজিং) আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে প্লেসমেন্টে শেয়ার ইস্যু করা বন্ধ হবে। এছাড়া আইপিও পূর্ব সকল শেয়ারে ৩ বছর লক-ইন (বিক্রয় অযোগ্য) রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।

সোমবার, ২৯ এপ্রিল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আয়োজিত এক জরুরী সভায় তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ডিবিএ এবং বিএমবিএর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রবিবার, ২৮ এপ্রিল শেয়ারবাজারের চলমান অবস্থা নিয়ে গণভবনে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অর্থমন্ত্রণালয় ও বিএসইসির কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। যেখানে শেয়ারবাজার নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরইআলোকে আজকে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জরুরী সভা করে বিএসইসি। সভায় গণভবনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, প্লেসমেন্ট আইন বাতিল করা হবে। আগামিতে বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে প্লেসমেন্টে কোন শেয়ার ইস্যু করার সুযোগ থাকবে না। একইসঙ্গে আইপিওকালীন সকল শেয়ারে ৩ বছর লক-ইন থাকবে।

যা প্রসপেক্টাসের সংক্ষিপ্ত সংস্করন প্রকাশের দিনের পরিবর্তে লেনদেন শুরুর দিন থেকে গণনা করা হবে। এছাড়া আইপিওতে ফিক্সড প্রাইস মেথডে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা ও বুক বিল্ডিং মেথডে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করতে হবে।

তিনি জানান, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা নিয়ে যে সমস্যা আছে, তা গণভবনে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি সমাধান করবেন বলে গভর্ণর জানিয়েছেন।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আইপিওতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এক্ষেত্রে ফিক্সড প্রাইস মেথডে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কোটা ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ এবং বুক বিল্ডিং মেথডে ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে।

এছাড়া শেয়ারবাজারে সক্রিয় নয় এমন ডিলার, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মার্চেন্ট ব্যাংকস ইত্যাদিকে যোগ্য বিনিয়োগকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

এদিকে বাজেটে লভ্যাংশের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর প্রত্যাহার, স্ট্যাম্প ডিউটি কমানোসহ কিছু প্রণোদনা থাকবে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।

উদ্যোক্তা/পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ ও সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন নিয়ে কিছু করা যায় কি না-তা নিয়ে কমিশন চিন্তা ভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন খায়রুল হোসেন।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বিজনেস আওয়ারকে বলেন, বহুদিন পরে কমিশনের সঙ্গে আজকে একটি অর্থবহুল বৈঠক হয়েছে।

চেয়ারম্যান শেয়ারবাজারের স্বার্থে সব কিছু করতে রাজি আছেন। তিনি শেয়ারবাজার নিয়ে আজকের বৈঠকে খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। যিনি প্লেসমেন্টের বাণিজ্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করছি। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি বন্ধ হবে বলে যোগ করেন ইমন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here