আইপিও তহবিলের অত্মসাৎ করা অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছেন প্যাসিফিক ডেনিমস পরিচালকরা

স্টাফ রিপোর্টার: আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃৃহীত তহবিলের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ডিসেম্বরে প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ চার পরিচালককে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এ বছরের জানুয়ারির মধ্যে প্যাসিফিক ডেনিমসের এমডিকে আইপিও তহবিলের অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিএসইসি। সে নির্দেশনা অনুসারে কোম্পানিটির পরিচালকরা আইপিও তহবিলে ৭৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন।

প্যাসিফিক ডেনিমসের কোম্পানি সচিব সোরাব আলী বলেন, বিএসইসির নির্দেশনা অনুসারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে (এমটিবি) থাকা আইপিও হিসাবে পরিচালকরা ৭৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। পাশাপাশি ৩১ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে চিঠির মাধ্যমে অর্থ ফেরতের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে বিএসইসির ৬৬৮তম কমিশন সভায় আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্যাসিফিক ডেনিমসের চেয়ারম্যান মো. সাদেকুল আলম ইয়াসিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিউল আজম মহসিন, পরিচালক মো. সোহেল খান এবং পর্ষদে ডিজনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের মনোনীত পরিচালক এমএ কামাল ভূঁইয়াকে আলাদা আলাদাভাবে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

তাছাড়া একই রসিদে একাধিকবার টাকা পরিশোধ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ লেনদেন করার কারণে প্যাসিফিক ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এই অর্থ কোম্পানিতে ফেরত দিয়ে এ বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রমাণসহ কমিশনকে অবহিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

সে সময় কমিশন সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, প্যাসিফিক ডেনিমসের আইপিও তহবিল ব্যয় পরীক্ষা করে দেখার জন্য নিরীক্ষা ফার্ম ম্যাবস অ্যান্ড জে পার্টনার্সকে বিশেষ নিরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে বিএসইসি।

নিরীক্ষক কর্তৃক কমিশনের কাছে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইপিও প্রসপেক্টাসে ব্যাংকঋণ পরিশোধের যে সময়সীমা ছিল, সে সময়ের মধ্যে কোম্পানি ব্যাংকঋণ পরিশোধ করেনি। তাছাড়া কোম্পানিটি তাদের খরচ নির্বাহের ক্ষেত্রে সম্মতিপত্রের (কনসেন্ট লেটার) শর্ত ভঙ্গ করে ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯ টাকা নগদে ব্যয় করেছে। এর ফলে প্যাসিফিক ডেনিমস সম্মতিপত্রের পার্ট সি-এর প্যারা ২, ৫ ও ৬ ভঙ্গ করেছে। পাশাপাশি কোম্পানিটি নিরীক্ষার ক্ষেত্রে কমিশনের নিয়োগ করা বিশেষ নিরীক্ষককে সহায়তা করেনি।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে আইপিও থেকে উত্তোলিত তহবিলের ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৬ হাজার ৬২৫ টাকা অপব্যবহার করা হয়েছে, যা কোম্পানিটি ভবন নির্মাণ খাতে ব্যয় হিসেবে দেখিয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের কাছে মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯-এর সেকশন ১৮-এর লঙ্ঘন করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের শুরুর দিকে পুঁজিবাজারে আসা প্যাসিফিক ডেনিমস লিমিটেড একই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি আইপিওর অর্থ হাতে পায়। আইপিও প্রসপেক্টাস অনুসারে আইপিওর অর্থ হাতে পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে ২৫ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ পরিশোধের কথা ছিল কোম্পানিটির। এজন্য আইপিওর আগে ব্যাংকের কাছ থেকে এনওসি নিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় প্যাসিফিক ডেনিমসের বিরুদ্ধে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিএসইসির কাছে অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির আইপিও তহবিল ব্যবহারের বিষয়ে পরীক্ষা করে দেখতে ম্যাবস অ্যান্ড জে পার্টনার্সকে বিশেষ নিরীক্ষক হিসেবে নিয়োগ করে কমিশন।

প্যাসিফিক ডেনিমসের আইপিও তহবিল ব্যবহারসংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান হাবিব সারওয়ার ভূইয়া অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন অনুসারে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগৃহীত ৭৫ কোটি টাকার মধ্যে ৫১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ টাকা ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। অব্যবহূত রয়েছে ২৩ কোটি ৫৬ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫৩ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকঋণ ও আইপিও প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থের পুরোটাই ব্যয় করা হয়েছে।

আর ভবন নির্মাণ খাতে বরাদ্দ থাকা ২৯ কোটি ৮৩ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৩ টাকার মধ্যে ব্যয় করা হয়েছে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৭ টাকা। তবে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বাবদ বরাদ্দ রাখা ১৮ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ২৭৭ টাকার পুরোটাই অব্যবহূত রয়েছে। সূত্র বণিক বার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here